মুর্শিদাবাদের এক দানবীর মহারাজার কথা

লেখক - সনাতন দাস


আশ্চর্যের কথা জ্ঞানাবধি মণীন্দ্রচন্দ্র মামার বাড়ির সবরকম ভালোবাসা হইতে বঞ্চিত ছিলেন! অকালে পিতা মাতাকে হারিয়ে অনাথ হয়ে মণীন্দ্রচন্দ্র অসহায় অবস্তায় নির্দিষ্ট মাসোহারার কাগজপত্র জোগাড় করেতে ১৮৭২ খ্রীষ্টাব্দ নাগাদ একবার দ্বারবান ভুনা সিং ও গৃহ শিক্ষক চন্দ্রকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় কে সংঙ্গে করে কাশিমবাজার রাজবাড়িতে এসেছিলেন। সেসময় তাকে রাজবাড়ির দ্বিতলের একটি কক্ষে মণীন্দ্রচন্দ্রকে স্থান দেওয়া হইল। মহারাণী স্বর্ণময়ীর জামাতা ঐ গৃহে বাস করিতেন বলিয়া উহার নাম ছিল জামাইবাবুর কামরা। কিন্তু সেই সময় মহারাণী স্বর্ণময়ী ভাগিনেয় মনীন্দ্রচন্দ্রের অভিভাবক হিসাবে  কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে কোনো মতেই রাজি হননি। যে কোনো কারণেই হোক কিশোর মনীন্দ্রচন্দ্র মাতুলানীর আদোর স্নেহ থেকে বঞ্চিত হলেও, পরিনত জীবনে নিজ মহত্বগুণে মাতুলানীর প্রতি সশ্রদ্ধচিত্ত ছিলেন। মহারাণী স্বর্ণময়ী গঙ্গাতীরবর্তী সৈদাবাদ রাজবাড়িতে ২৫ শে আগস্ট ১৮৯৭ পরলোক গমন করেন, তখন জেলা মেজিস্ট্রেট মিঃ লেভিংজ ২৫ শে সেপ্টেম্বর ১৮৯৭ সকাল ৮: ৩০ মিনিটে রাজবাড়ির সিলমোহর ও তালা খুলে মণীন্দ্রচন্দ্রকে রাজবাড়ির দখল দেন। মহাপ্রাণ মণীন্দ্রচন্দ্র কাশিমবাজার রাজপ্রাসাদে রাজার গৌরবে, রাজার যোগ্য অভ্যর্থনায় সম্মানিত হয়ে পৌরজনের আনান্দ কোলাহল ও জয়ধ্বনির মধ্যে অতুল ঐশ্বর্যের অধিকারি হন। মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী প্রচুর অবদান আছে আমাদের মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়ে, স্কুল, কলেজ মন্দির আরো অনেক ঐতিহ্য। 

  (লেখকের বক্তব্য ও ছবি নিজস্ব এর জন্য 'প্রত্নচিহ্ন' টিম কোন ভাবে দায়ী নন)
             

Comments

Popular posts from this blog

কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির ইতিহাস

বঙ্গে বর্গি আক্রমণ ও ধ্বংসাত্মক ফলশ্রুতি

কৃষ্ণনগরের সরভাজা ও সরপুরিয়ার ইতিহাস