Posts

Showing posts from August, 2020

মতিচুর কথা

Image
     প্রিয়াঙ্কা সরকার           ভোজন রসিক বাঙালি জীবনের স্বাদে বিলাসিতা মানেই মিষ্টি। আসুক অতিথি,  ঈশ্বরের কাছে ভরিয়ে দেওয়া স্বাদের উৎসব আয়োজনে একটু মিষ্টি ছাড়া পূর্ণতা পায় না। শোনা যায়, বাঙালি প্রথম পর্তুগিজদের কাছ থেকে ছানা তৈরি শেখে। তবে ক্ষীর আর পায়েস তখন ছিলো প্রথম হাতেখড়ি। এতো মাধ্যম, এতো আয়োজনের সংসারে শতেক ব্যঞ্জন কে জানতো বলুন তো!  চিনির সাথে ছানার এই যে পরিপাক তা কিন্তু অষ্টাদশের শেষভাগে শুরু করে হুগলির হালুইকরেরা৷ প্রথমের দিকে টাঙ্গাইলের চমচম,  বগুড়ার দৈ,  নাটোরের কাঁচাগোল্লা, কুমিল্লার রসমাল্লা এতো শোনাই যেতো,  কিন্তু আস্তে আস্তে কালের ধারায় মোড় নিলো ছানামুখী রসিক বাঙালি,  এ দেশেও। আজ যেহেতু, মতিচুর নিয়ে কথা বলছি, তাই ইতিহাসকে ভিত্তি ধরে কথা বলতেই মন চাইছে। পরিবর্তন আসবে, বিবিধ ক্ষেত্রে  বইবে বাতাস, কিন্তু ভিত্তিকে অস্বীকার করা অকৃতজ্ঞতা৷ বিষ্ণুপুরের বুকে যেমন ধ্রুপদ সুর খেলা করে, অনুরূপে নাকে আসে মোতিচুরের গন্ধ!  ওমা!  ইতিহাস চুপি চুপি কথা বলে বৈকি৷ ধ্রুপদের যে ধার, যে আমেজ তা তো মল্লর...

নদীয়ার প্রত্নক্ষেত্রস্থল বল্লাল সেনের ঢিপির ইতিহাস

Image
   রিয়া দাস           বল্লাল ঢিপি নদিয়ার অন্যতম প্রত্নক্ষেত্র । তবে নবদ্বীপের নিকটবর্তী মায়াপুরের কাছে বামুনপুকুরে অবস্থিত,  ভক্ত চাঁদকাজীর সমাধিস্থল থেকে উত্তর পশ্চিম দিকে কিছুটা গেলেই বল্লাল ঢিপির অবস্থান। আচ্ছা আসলে কি এই বল্লাল ঢিপি  ? সত্যিই কি সেন রাজাদের প্রাসাদের ধ্বংস স্তূপ  ?  না কি এ আদতে এক বৌদ্ধ স্তূপ  ? বামুনপুকুর স্থানটি একটি ঐতিহাসিক প্রাচীন নাম বিশেষ। কলকাতা থেকে ১২৫ কিলোমিটার দূুরে অবস্থিত ,  শিয়ালদহ থেকে কৃষ্ণনগর লোকালে উঠে কৃষ্ণনগর স্টেশনে নেমে মায়াপুরগামী বাসে উঠলে ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে পৌঁছানো যায় বামুনপুকুরে। আবার ট্রেনে হাওড়া থেকে নবদ্বীপ পৌঁছে ঘাট পেরোলে মায়াপুর থেকে বামুনপুকুরে আসা যায়। তবে এখানকার উল্লেখযোগ্য প্রত্নতত্ত্ব ও পুরাকীর্তি হল চাঁদকাজীর সমাধি আর বল্লাল ঢিপি। প্রথমত সেন বংশের পরিচয় সম্পর্কে আলোকপাত প্রয়োজন।   সেন বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা,  তথা রাজা  বল্লাল সেন প্রায় ১০৬০- ১০৮৩  সালে রামপাল নগরে জন্মগ্রহণ করেন । শৈব বরে তাঁর জন্ম হওয়ায় পিতা বিজয় সেন  পুত্রের নাম রা...

রাষ্ট্রিক নয় ভারতের মধ্যযুগের সাধনা (তৃতীয় পর্ব)

Image
     প্রিয়াঙ্কা সরকার  কাশ্মীরে পীরজাদাদের শেকড় সৈয়দ ; জাতিগত ভাবে পীরজাদা পরিবারের প্রত্যেক ব্যক্তি হাশমি ব্লাডলাইন থেকে আসে, হাশমি উপজাতির অন্তর্ভুক্ত ; এরা মূলত সৌদি আরবে, সৈয়দের;  তবে তথ্য অনুসারে একজন "পীরজাদা " বলতে ঐতিহাসিকভাবে সূফী  মাজার ও মুসলিম ভূখন্ডের মাজারের সরকারী রক্ষক হিসাবে বর্ণনা পাওয়া যায়৷ "পীরজাদা " ফরাসি ভাষায় "একজন সাধু বা সন্তের পুত্র "; এদের বংশধরেদের  বেশিরভাগ অংশ সনাক্ত করতে  গিয়ে উজবেকিস্থান, কিরগিজস্থান, তুর্কমেনিস্তান,  ও মধ্য এশীয় মালভূমিতে পাওয়া যায় ; মধ্য এশিয়ায় উৎপত্তি হওয়ার কারণে পীর পরিবারের সাথে যুক্ত। ধর্মের বহু বৈচিত্র্য চোখে পড়ে। মূলতানের শামস - ই - তবরেজ - এর তীর্থস্থল আজও জাতিগত মিলনকেন্দ্র বলা যায়। সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে মহম্মদ শাহদুল্লা একটি সম্প্রদায় স্থাপন করেন ; তাঁর দরগায় হিন্দু মুসলিম ভক্তের কেন্দ্রস্থল। তাঁর মতবাদীদের নাম পীরজাদা। এদের মতে বিষ্ণুর দশম অবতার হলেন " নিষ্কলঙ্ক" ; এখানে গুজরাটের পীরানা পন্থীদের সাথে এদের কোনো প্রভেদ নেই। এখন বলবো," পীরানা পন্থী "বলতে কি বোঝায়। কি এদের...

হংসেশ্বরী মন্দিরের ইতিহাস

Image
 রিয়া দাস           পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাঁশবেড়িয়া নামক স্থানে অবস্থিত হংসেশ্বরী কালীমন্দির হলো একটি বিখ্যাত কালী মন্দির। এই মন্দির এতটাই অনন্য এবং রাজকীয় যা আমাদের সবাইকে সম্পূর্ণ সম্মোহিত করে তোলে। এটি হলো কলকাতার নিকটস্থ অত্যন্ত জনপ্রিয় হংসেশ্বরী মন্দির।                       ১৯ শতকের প্রথম দিকে নির্মিত,  এই মন্দির দেবী হংসেশ্বরী কে নিবেদন করা হয় যা দেবী কালীরই একটি রূপ । এই মন্দিরের  স্থাপত্যটি সবদিক দিয়ে সত্যিই অসাধারণ, যা  এই স্থানের প্রধান পর্যটন আকর্ষণ।                        মুঘল আমলের দুর্গ- নগর বংশবাটী বাঁশবেড়িয়া কালের নিয়মে আজ হৃত গৌরব  হলেও আমরা মূলত যে সময়ের কথা বলছি , সে সময় প্রসিদ্ধ জনপদ হিসাবে বংশবাটী বেশ খ্যাতি ছিল। প্রজাবৎসল হিসাবে খ্যাতি ছিল এখানকার রাজপরিবারেরও।     ...

রাষ্ট্রিক নয় ভারতের মধ্যযুগের সাধনা (দ্বিতীয় পর্ব)

Image
      প্রিয়াঙ্কা সরকার                                                                                                                                                                           (দ্বিতীয়  পর্ব) ...

রাষ্ট্রিক নয় ভারতের মধ্যযুগের সাধনা

Image
প্রিয়াঙ্কা সরকার                                                                          ( প্রথম পর্ব) সম্বৃদ্ধের আধারে ভারতকে দেখলে ভারতবর্ষ জীবনী শক্তির ধারক৷ মেলবন্ধন,  পারস্পরিক প্রাণশক্তির কেন্দ্রস্থল হিসাবে যদি ধরি, তবে কিন্তু সেটা মধ্যযুগের নয়৷ শক, হুণ দল ভারতে এসেছে, কেউ ভারতবর্ষকে ভালোবেসে এখানে থেকে গেছে, আবার কেউ কেউ লুঠ করেছে। বয়ে যাওয়া জীবন অনেকটা  দুধটুকু সার করে যতোটা স্বাদ নেবে, ততটাই পাওয়া, উপরের মাটা তো ঘি,  ওতে বিরুদ্ধাচার আসে না৷ কিন্তু এই প্রাণশক্তি আঘাত করলো যেদিন সেদিন চিন্তাশীল মনন যেন নির্গূঢ়মর্মবাদী রূপে আত্মপ্রকাশ করলো। আসলে এতোদিন ভাবনার অলংকারে আবদ্ধ ছিলো উপনিষদ, এবার সাধনার গভীরে প্রাণখোলা শ্বাসে তা অঙ্গ হয়ে উঠল। এখন প্রশ্ন আসবে এমন করেই কি চিন্তাশীল সাধক বুদ্ধ এগিয়েছিলেন!  হ্যাঁ, চিন্তন মনশ্চক্ষু জাগ্রত হলেই চেতনার ভ্রুণটি শীলে পরিণত হয়। আর তখনই আসে প্রজ...

সালারের জমিদারী শাসনের অজানা ইতিহাস

Image
    প্রিন্স খন্দেকার     সালারের জমিদারী শাসনের সূচনা হয় প্রায় আড়াইশো বছর আগে ব্রিটিশ আমলে। ইংরেজের রাজত্বকালে বাংলাদেশের নাটোরের জমিদার ছিলেন রানী ভবানী(১৭১৬-১৭৯৫ )। ১১৫৩ বঙ্গাব্দে রাণী ভবাণীর স্বামী রামকান্ত ইহলোক ত্যাগ করার পর অধিকারবলে রাণী ভবাণী স্বামীর জমিদারী প্রাপ্ত হন। তখনকার দিনে জমিদার হিসাবে একজন মহিলা অত্যন্ত বিরল ছিলেন, কিন্তু রাণী ভবাণী রাজশাহীর বিশাল জমিদার কার্য অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নি র্বাহ করেন। তাঁর রাজত্বকালে জমিদারী বর্তমান রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, কুস্টিয়া, যশোর, রংপুর এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহ পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে। এজন্য তাকে অর্ধবঙ্গেশ্বরী বলা হতো। এই রানী ভবানীর দেওয়ান ছিলেন এনায়েত উল্লাহ। তিনি প্রথমে নবাব মুর্শিদকুলী খাঁর দরবারে কর্মে নিযুক্ত ছিলেন। পরবর্তীকালে নবাবের সুপারিশে রানী ভবানীর দরবারে দেওয়ান হিসেবে নিযুক্ত হন। রানী ভবানীর কোনো সন্তান ছিল না। তাই তিনি দত্তক নিয়েছিলেন। ব্রিটিশরা দত্তক নেওয়ার বিরুদ্ধে আইন করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রানী ভবানীর সম্পত্তি নিলাম করে দেয়। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় এনায়েত উ...

নবদ্বীপ নামকরণের ইতিহাস

Image
          রিয়া দাস ( রাই )          এই সেই নবদ্বীপ । একসময় যা বাংলার অস্কফোর্ড নামে খ্যাত ছিল । এই নবদ্বীপ কখনো শাক্তদের সাধন স্থল, আবার কখনো শৈবদের পীঠস্থান, কখনো বা বৈষ্ণব দের পুণ্য ক্ষেত্র । নবদ্বীপ মানে নয়টি দ্বীপের সমন্বয় । এই নবদ্বীপের আকৃতি হচ্ছে অষ্টদল পদ্ম , অর্থাৎ আটটি পাঁপড়ি যুক্ত একটি পদ্মের মতো মাঝে রয়েছে কোরক অর্থাৎ অন্তদ্বীপ , আর অন্তদ্বীপ কে বেষ্টন করে রয়েছে আরও আটটি দ্বীপ ।                ভাগীরথী তীরস্থ   সুপ্রাচীন ঐতিহ্যশালী শহর এই   নবদ্বীপ ।   নবদ্বীপ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নদীয়া জেলার একটি সুপ্রাচীন শহর ও পৌরসভা এলাকা । আর এই নবদ্বীপেই   চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান ও লীলা ক্ষেত্রের   জন্য বিখ্যাত । মূলত শহর নবদ্বীপ চৈতন্যর সারাবাংলার কাছে পরিচিত ছিল । নবদ্বীপ পৌরসভা ১৮৬৯   সালে স্থাপিত হয় ।          ...