Posts

Showing posts from July, 2020

জীবন আঙ্গিকে কাঁদে নির্বন্ধব পুরীতে শেরশাহ (দ্বিতীয় পর্ব)

Image
লেখিকা -প্রিয়াঙ্কা সরকার                                                                                         (দ্বিতীয়  পর্ব) জীবন বোঝে জীবনের মানে ; আর তাই ফরিদ বুঝেছিলো জীবনের কোণে অপেক্ষা করছে বলিষ্ঠ সময়। অন্যের ন্যায় - অন্যায় বিচারে কাঁদে নিরুপায়, তাই বলে আর নিজেকে বেঁধে রাখা নয়। এবার পদক্ষেপ নিতেই হবে , তাই স্থানান্তর জৌনপুর। কিন্তু আফগানরা তো অস্ত্র বোঝে, আর ফরিদ বোঝে শিক্ষা। লেখনীর ধার কি, তবে ফরিদ কলমে বইতে জানে! জীবন থেকে নেওয়া শিক্ষা তো মিথ্যা হতে পারে না!  বিরক্তির বিদ্রুপ কেঁদেছিলো ফরিদের উষ্ণ কন্ঠায়। কামিনী কাঞ্চন ছেড়ে চোখ খুলবে ভিন্ন স্থানে, এটাই তো চে...

মুর্শিদাবাদের নবাবী কেল্লার সেকাল-একাল

Image
  লেখক-ফারুক আব্দুল্লাহ সীতারামের আঁকা ১৭৯৫ সালের কেল্লা নিজামতের এক অংশের চিত্র   দিল্লির মুঘল বাদশাহরা যেমন লালকেল্লায় বসবাস করতেন,ঠিক তেমনই বাংলার নবাবরা বসবাস করতেন মুর্শিদাবাদের কেল্লা নিজামত বা নবাবী দূর্গে।এই কেল্লার অবস্থান ছিল মুর্শিদাবাদ নগরীর বুক চিরে চলে যাওয়া ভাগীরথী নদীর পূর্ব পাড়ে বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে।আজ অবশ্য সেই নবাবী কেল্লার অস্তিত্ব আলাদা করে বোঝার কোন উপায় নেই।কিন্ত একটা সময় ছিল যখন সমগ্র রাজধানী নগরীর মধ্যে এই কেল্লার   গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।সমগ্র অঞ্চলটি ছিল উচ্চ নিরাপত্তায় আবৃত।কেল্লার ভিতরে প্রবেশের জন্য একটি প্রধান দরজা সহ আরও বেশ কয়েকটি দরজা ছিল।কেল্লার ভিতরে ছিল নবাব ও তার আত্মীয় স্বজনদের বসবাস এবং প্রশাসনিক কার্যকলাপ পরিচালনার প্রচুর প্রাসাদ।এছাড়াও ছিল বহু মসজিদ,ইমামবাড়া,চিকিৎসালয় সহ আরও নানান প্রয়োজনীয় ছোট,বড় ভবন।সময়ের সঙ্গে,সঙ্গে একদিকে যেমন কেল্লার বহু পুরনো প্রাসাদ ভেঙে পড়েছে তেমনই আবার সেই স্থানে নতুন প্রাসাদও গড়ে তোলা হয়ছে।বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে কেল্লার ভেতরে শেষ প্রাসাদ হিসেবে বেগম মহল নির্মিত হয়েছিল।তার...

জীবন আঙ্গিকে কাঁদে..... নির্বন্ধব পুরীতে শেরশাহ (প্রথম পর্ব)

Image
 লেখিকা- প্রিয়াঙ্কা_সরকার                                                                                                      (প্রথম পর্ব)  জীবন যাতনায় কতো ফুল আসে যায়, বিধাতার চরণে কয়জনই বা ঠাঁই পায়!  আর্ত কান্না দেখলে নারী মন আঁকতে চায় বৈকি, তুলে দেওয়া নারী হৃদয়ের কথকতা ; সম্পর্কের তথ্য সাজিয়ে পাতাগুচ্ছ পেলে মনে হয়, আমারো তো অনেক কিছু বলার আছে,তাই কলম ধরি বার বার। হয়তো অনুপ্রেরণার  হাত দি পুস্তকের বুকে ; ক্ষতি কি যদি কিছু কথায় উপলব্ধির সুর বয়ে আসে অন্যপ্রাণের বুকে দাগ কাটে শব্দেরা!  তাই আলাপেই প্রেক্ষিত ছুঁয়ে থাকে কথকতারা ; পুরুষ মানেই জন্মগ...

মুর্শিদাবাদের নবাবী কেল্লায় হারিয়ে যাওয়া আঙ্গনা মহলের খোঁজে

Image
   লেখক- সুব্রত বিশ্বাস  শহর মুর্শিদাবাদ ও ইতিহাস  যেন একে অপরের দুটি শব্দ। ভাগীরথী নদী তীরে এই  জনপদটি নবাবী রূপে সর্বপ্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটায় মুর্শিদকুলি খানের হাত ধরে। তদানীন্তন বাংলা সুবার কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক কর্মস্থল অর্থাৎ রাজধানী ছিল এই জনপদটি। বাংলা সুবার পূর্বতন রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয় শহর মুর্শিদাবাদের তদানীন্তন অনুকূল ভৌগলিক অবস্থান। প্রধানত বাংলা সুবার কেন্দ্রীয় অবস্থান এবং পার্শ্ববর্তী ভাগীরথী নদীকে জলপথ হিসেবে ব্যবহার করার সুবিধা কে মাথায় রেখেই এই জনপদটির পত্তন হয়েছিল। বাংলা সুবার প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র তথা বাসস্থান হিসেবে গড়ে ওঠা তৎকালীন অন্যতম প্রধান প্রয়োজনীয়তা স্বরূপ নির্মিত হয়েছিল নিজামাত কেল্লা। ভাগীরথী নদী তীরবর্তী প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ প্রায় চারশো মিটার প্রস্থ ছিল এই কেল্লাটির। সুদীর্ঘ নবাবী সময়কালে কেল্লা মধ্যস্থ সকল স্থান যে  সমমর্যাদা সম্পন্ন ছিল তা কিন্তু নয়। বিভিন্ন নবাব এর সময়ে কেল্লার বিভিন্ন অংশ যেন হয়ে উঠতো জাঁকজমকপূর্ণ। আর সেই কারণেই কেল্...

বিভিন্ন যুগের সুরা পানের কথা

Image
লেখিকা- রুকসার রোজিনা তিতুমীর হাসান বর্তমান যুগপরিস্থিতির উপর নিক্ষেপিত দৃষ্টিপাত করলে লক্ষণীয় বহুল প্রচলিত ও চর্চিত দ্রষ্টব্য বিষয়ই   হলো এ্যালকোহল বা মদ। প্রায় সকলেই জ্ঞাত ও প্রত্যক্ষ দৃষ্ট বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা ঠিক কতটা মাদকাসক্তে আচ্ছন্ন।শুধুমাত্র বর্তমানকে দোষারোপ করলে বোধহয় সমীচীন হয়।ইতিহাসের উল্টো পৃষ্ঠায় অন্তর্দৃষ্টিসংপন্ন সেই সুপ্রাচীনকালে বহু পূর্ব থেকেই বহাল ছিল এই সোম রস।সুরা পান বা সোম রস কেবলমাত্র আভিজাত্যের প্রতীকই ছিল না, এ যেন এক ভোগবিলাস, আমোদপ্রমোদের উপকরণও বটে। তাছাড়া মদ ,তাড়ি ,গাঁজা প্রভৃতি নেশা জাতীয় বস্তু আজও আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্য বহন করে চলেছে।   নশ্বর এবিশ্বে চীর কাঙ্ক্ষিত অমর হওয়ার বাসনা।আর এই অমরত্ব লাভের উপায় অনুসন্ধান করতে অনেককেই বিসর্জন দিতে হয় জীবনের মহামূল্যবান সময়।অতি প্রাচীনকালে মুনি-ঋষিদের থেকে আরম্ভ করে আধুনিককালের গবেষকরাও আসমুদ্রহিমাচল পাড়ি দিয়েছেন শুধুমাত্র একটুকরো অমরত্ব লাভের আশায়।যা পারে-আপন সত্বা ও অস্থিত্বকে মহাজগতের সঙ্গে অভীন্ন করতে।দান করতে পারে অসীম শক্তি ও সুস্বাস্থ্য।এমনই একটি উপ...