Posts

Showing posts from June, 2020

নবাবী রান্নাঘর থেকে - আজকের বিশেষ পদ - 'কুবুলি'

Image
  মুল লেখা -নাফিস উন নিসা নাসির (নবাব মনসুর আলি খাঁন ফেরাদুন জা'র বংশধর) অনুবাদ-সহেলী চক্রবর্তী(সম্পাদিকা প্রত্নচিহ্ন ম্যাগাজিন ও ব্লগ)    উপকরণ - কামিনী ভোগ আতপ চাল,নতুন আলু(ছোট), মাংস (  খাসি),ছোলার ডাল,ডালডা ঘী,গরম মশলা,তেজপাতা,ডিম সেদ্ধ (ভাঙ্গা)                                    প্রণালী - একটা কড়াইতে ডালডা ঘী দিতে হবে। আলু ও মটরশুঁটি (চাল যতটা মটরশুঁটি ততটা)আলাদা আলাদা করে ভাজা হলো। সেদ্ধ ডিমকে একবার ভেজে নিতে হবে। এবার ছোলার ডাল (২০০গ্রাম),আধ কেজি মাংস, গরম মশলা, তেজপাতা, নুন দিয়ে ভালো করে সেদ্ধ করতে হবে। সেদ্ধ উপকরণটি ভালো করে পেস্ট করার পর, ডিমের সাদা অংশ দিতে হবে। এরপর মিশ্রণ টিকে ছোট ছোট কোফতার আকার দিয়ে ভালো করে ভাজতে হবে। ভাজা হয়ে গেলে তাতে আধঘন্টা ভেজানো কামিনী ভোগ চাল দিয়ে ৫মিনিট ভালো করে নাড়াচাড়া করার পর গরম জল দিতে হবে। এর সাথেই পরিমাণ মতো নুন দিয়ে দিতে হবে।  চাল হ...

'সঙ্গ-ই-দালান' এক ঐতিহাসিক প্রাসাদের ভৌগোলিক বৃত্তান্ত

Image
  লেখক-সুব্রত বিশ্বাস পুরানো মতিঝিলের পরিত্যক্ত প্রধান ফটক বাংলায় মুর্শিদকুলি খাঁন উত্তর যুগের সূচনা হয়ে গিয়েছে। মসনদে তখন নবাব সরফরাজ খাঁন। তৎকালীন বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার  সর্বাধিপতি। অন্যদিকে বিহারের পাটনায় তখন শাসক আলীবর্দী খাঁন। এরইমধ্যে আলিবর্দি খাঁনের বাংলার মসনদে বসার ইচ্ছে প্রবল হয়ে উঠলে, সূচনা হয় দেখো নবাব সরফরাজ খাঁন ও আলীবর্দী খাঁনের দ্বন্দ্ব। বলা যায়, এক প্রকার শঠতার আশ্রয় নিয়ে গিরিয়া প্রান্তরে আলীবর্দী খাঁন মুখোমুখি হন নবাব  সরফরাজ খাঁনের। যুদ্ধের ফলাফল যেন ছিল পূর্বনির্ধারিত। যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয় ঘটে নবাব সরফরাজ খাঁনের, মৃত্যুবরণ করেন তিনি। পরবর্তী নবাব হিসেবে বাংলার মসনদে বসেন আলীবর্দী খাঁন।       তবে আলীবর্দী খাঁন নবাব হবার আগের আর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো তার জেষ্ঠা কন্যা  ঘসেটি বেগমের বর্তমান বাংলাদেশের তদানীন্তন শাসক নওয়াজিশ মোহাম্মদের সঙ্গে বিবাহ। প্রাথমিক স্তরে, বিবাহ সূত্রে ঘর বাংলাদেশ নওয়াজিশ মোহাম্মদের প্রাসাদের চলে গেলেও, আলীবর্দী খাঁন নবাব হবার পর তার তৎকালীন বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে আগমন ঘ...

পুরাবৃত্ত ঘিরে আছে হুগলীর দশঘরা গ্রাম

Image
লেখিকা- প্রিয়াঙ্কা সরকার    এক বৈচিত্র‍্যহীন গ্রামের কথা বলবো আজ। যতটুকু সুখ আর আয়োজনের প্রীতি, তা ঘিরেই আছে বিশ্বাস" বাড়ির উত্তরধিকার পুরাবৃত্ত। ক্রিয়াকর্ম, যজ্ঞ যাগে জড়িয়ে রয়েছে লোকহিতকর উত্তরাধিকার সম্পদ। জানি না, পূর্বাপেক্ষা বৃহৎ করে নিজেকে ভাবতে পারবে কিনা এই দশঘরা, কিন্তু বঙ্গসংস্কৃতি যদি লেখা হয়, তবে এই বিশ্বাস বংশের সগৌরব কীর্তি ফলকে ফলকে লেখা হবে, এটা বলাই যায়৷ বিস্মৃতপ্রায় ইতিহাসে, বিলুপ্তি আঁকা হলে, সেদিনও কীর্তি জয়রথ সাজিয়ে দেবে প্রতি কল্পে। দশঘরা হুগলী জেলার আর পাঁচটি গ্রামের মতোই এক প্রাকৃতিক সংসর্গে গড়ে ওঠা এক গ্রাম৷ কিন্তু কেন উঠে এলো এই নাম!  ইতিহাসে কি আছে, যে প্রাঞ্জল শ্বাসে ব্যক্ত হলো উত্তরাধিকার পুরাবৃত্ত! আসলে "বিশ্বাস " বাড়ির "কুলপঞ্জি " বলছে এই বাড়ির বংশের জগমোহন ছিলেন পরম ধার্মিক। পূর্ব রাজধানী দশঘরার  রাজা মহাত্মা রামনারায়ণ পালচৌধুরী তাঁকে মন্ত্রিপদে নিযুক্ত করেন এবং কুলোপুরোহিত সহ দশঘরায় বাস করান। রাজা রাজ্যচ্যুত হলে তাঁর সুত রামমোহন দেব বিশ্বাস বর্ধমান রাজার নিকট ইজারা গ্রহণের সময় বেশ কিছু দেবসেবা, ভূমিদান, ইত্যাদি কাজে ...

নবদ্বীপের মা ভবতারিণী মন্দিরের ইতিকথা

Image
লেখিকা- রিয়া দাস   বাংলাদেশের ইতিহাসে নবদ্বীপ এর নাম আজ প্রায় হাজার বছর ধরে জড়িত। সাধারণভাবে, নবদ্বীপ মহাপ্রভু চৈতন্য দেবের আবির্ভাব ভূমি নবদ্বীপ ধাম হিসেবে পরিচিতি লাভ করে শতাব্দি থেকে। সেই একাদশ শতকে সেনরাজাদের আমল থেকেই নবদ্বীপ তাই এক বিশেষ মহিমায় আসীন। কিন্তু নবদ্বীপ বাংলার ইতিহাসে এমনই একটি উজ্জ্বল নাম যে একসময় একে মূলত"অক্সফোর্ড অফ বেঙ্গল"বলা হত।কারণ নবদ্বীপ পূর্বাঞ্চলের মধ্যে এক অগ্রগণ্য শিক্ষার স্থান ছিল।তৎকালীন সময়ে বেনারসের পরেই সংস্কৃত শিক্ষা ও চর্চা ভূমি ছিল নবদ্বীপ।                            নবদ্বীপ শহর ভাগীরথীর পশ্চিম তীরে, ভাগীরথী ও জলঙ্গীর সঙ্গমস্থলে অবস্থিত।চৈতন্যদেবের জন্ম ও বৈষ্ণব ধর্মের প্রবক্তা হিসেবে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ার পর নবদ্বীপ প্রধানত বৈষ্ণব তীর্থভূমি হিসেবে অতি পরিচিত হয়ে ওঠে। তবে অনেকের মতে সেই নবদ্বীপ চলে গেছে অধুনা বাংলাদেশের রাজশাহী অঞ্চলে, যদিও স্থানীয় লোক এদের মতে নদীয়ার গঙ্গাতীরে নবদ্বীপ এভাবেই তৈরি...

নবাব সরফরাজ খান এর ফৌতি মসজিদ বা ফুটি মসজিদের খোঁজে একদিন।

Image
লেখক- যোগেন বিশ্বাস   অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম নবাব সরফরাজ খানের ফুটি মসজিদ বা ফৌতি মসজিদ দেখতে যাব এবং তার চূড়ায় উঠবো। অবশেষে সেই সুযোগ এল ফৌতি মসজিদ যদি কারো দেখতে যাওয়ার ইচ্ছা হয় তাহলে দুই ভাবে যাওয়া যায়, প্রথমতঃ মুর্শিদাবাদ রেলস্টেশনে নেমে সোজা লাইন বরাবর প্রায় এক কিলোমিটার হেঁটে গেলেই ১৪৩ নম্বর রেলগেটের পূর্ব পাশে দেখতে পাবেন বৃহদাকার এই মসজিদটি। দ্বিতীয়তঃ কাটরা মসজিদের সামনের রাস্তা পার হয়ে সোজা পশ্চিম দিকে যে পাকা রাস্তা চলে গেছে প্রায় এক কিলোমিটার টোটো তে চেপে গেলেই রেল গেটের পাশে দেখতে পাবেন এই ঐতিহাসিক মসজিদটি।   তৃতীয়তঃ হাজারদুয়ারি থেকে টোটোতে কুড়ি টাকা ভাড়া দিয়ে চেপে পূর্বদিকে দেড় কিলোমিটার গেলেই ১৪৩নম্বর রেলগেট এর পাশেই দেখতে পাবেন বাংলার তৃতীয় নবাব সরফরাজ খান এর নির্মিত এই বিশাল আকৃতির মসজিদটিকে। যদিও আমি মোটরসাইকেলে জিয়াগঞ্জ থেকে সোজা কাটরা মসজিদের সামনের রাস্তা দিয়ে পৌঁছে গেলাম ফুটি মসজিদের সামনে। সত্যি কথা বলতে কি শিয়ালদহ- লালগোলা রেললাইনের পাশেই এই বিশাল আকৃতির মসজিদটি । "তথ্য" অনুযায়ী ১৭৩৯ থেকে ১৭৪০ সাল পর্যন্ত ছিল সরফরাজ খানের ...

বিস্মৃত এক বাঙালী চিকিৎসক

Image
লেখিকা- তোর্সা দে প্রতিনিয়ত আমাদের চারপাশে বহু ঘটনা ঘটে যা আমরা লক্ষ্য করি না বা  গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করি না যতক্ষন না পর্যন্ত কেউ সেটা আমাদের চোখে আঙ্গুল  দেখিয়ে  দেয় । যদিও  সেসব অনেক ঘটনাই আমাদের জীবন কে পাল্টে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। অনেক সময় জন জাগরণকারী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে চলচিত্র । ১৯৯১ সালে বাংলার সনামধন্য চিত্রপরিচালক তপন সিংহ বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক রামাপদ রায়চৌধুরীর কাহিনী “অভিমন্যু” অবলম্বনে একটি হিন্দি ভাষায় চলচিত্র নির্মান করেন “ek doctor ki maut” (Death of a Doctor)।( https://en.m.wikipedia.org/wiki/Ek_Doctor_Ki_Maut)  জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত এই চলচিত্র বাংলার এক উপেক্ষিত বিস্মৃত ডাক্তার সুভাষ মুখোপাধ্যায় এর জীবনকথা তুলে ধরে, যাঁকে ছাড়া বাংলা তথা ভারতের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাস রচনা অসম্ভব। ২০ ই জুন, ১৯৮১ আনন্দবাজার পত্রিকার শিরোনামে ছিল একটি বিয়োগান্তক সংবাদ।১৯ শে জুন শিক্ষিকা নমিতা মুখার্জি স্কুল থেকে তাঁদের দক্ষিণ কলকাতার flat এ  ফিরে এসে দেখেন স্বামী সুভাষ মুখোপাধ্যায় এর ঝুলন্ত মৃতদেহ! পাশে রাখা suicide note-“ I can’t wait every...

ঐতিহাসিক পটে আমুদে বাঙালির কাছে" আম "

Image
লেখিকা- প্রিয়াঙ্কা সরকার    ঋতু বৈচিত্র্য ছুঁয়ে আছে বাঙালির স্বাদ; কতোটুকুই বা স্বাদে সংমিশ্রণে ভরে  যায় প্রাণ! গ্রীষ্মপ্রধান দেশে সারা বছরই গরম। ঋতু বৈচিত্র‍্য জুড়ে কতোটুকুই বা উপভোগের থালি ভরে জীবন। তাই আর ভণিতা না রেখে, স্বাদের আম ভরা ঐতিহাসিক সুখটুকু মেখেই আজকের আলোচনা৷ গ্রীষ্ম এসেছে, আর আমের স্বাদ  ভুলে যাবে বাঙালি!  এমন কি হতে পারে!  তাই তো ডালি ভরা সাজে আজ ইতিহাস বয়ে এলাম  ফজলি, সুবর্ণরেখা,  মিশ্রিদানা, বারোমাসি, গোপালভোগ,  তোতাপুরি, কারাবউ, সূর্যপুরি,  কলাবতী, অরুণা, খিরসা, মল্লিকা..  আরো কতো কি! সাহিত্য আঁকড়ে ধরলে, কল্যাণী দত্তের "থোড় বড়ি খাড়া " বইটির কথা মনে পড়ে। আসলে জীবনের  খুঁটিনাটিগুলি অনেকটাই আড়ালে আবদালে নিখুঁত ভাবে অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকে৷ এক্ষেত্রে পূর্ণেন্দু পাত্রীর লেখায় বেশ কিছু কুশলতা  চোখে পড়ার মতো। তখনকার দিনে আম ছিলো এক এলাহি ব্যাপার। জালতি দিয়ে পেড়ে আম ঘরে এনে সুস্বাদু করা হতো। তুলোয় মোড়া থাকতো চালানি আম, আর তা অবশ্যই জামাইদের জন্য। আমের জন্য ব্যবহার করা হতো নারিকেলের...

অম্বল বা টক এর একাল-সেকাল

Image
লেখিকা- প্রিয়াঙ্কা সরকার ইতিহাস কথা বলে;অম্বল হলো ব্যঞ্জন ; টক স্বাদের কোনো বিকল্প নেই। কোনো ফল সিদ্ধ করে তাতে মিষ্টি মিশিয়ে কিংবা না মিশিয়ে এই ব্যঞ্জন তৈরি হয়৷ রাঢ়ের বুকে শেষের ভাতে একটু চাটনি খুব উপাদেয়৷ নদিয়া, মুর্শিদাবাদে মরসুমি তরকারি হিসাবে অম্বল খাবার চল আছে। টক বলতে উপকরণ মানেই আম, টোম্যাটো, আমড়া, কাঁচা পাকা তেঁতুল, কুল, করমচা, টক পালং ইত্যাদির নাম পাওয়া যায়৷ বর্ধমান ও বীরভূমে পুরানো তেঁতুল দিয়ে মাছের টক রেঁধে তা মাটির হাঁড়িতে ভরে রাখা হয়। অনেক সময় রান্নাঘরের শিকেয় সাজিয়ে টাঙিয়ে দেওয়া হয়। বড়ো ওজনের পোনা মাছ বেশ কয়েকদিন রাখা হয়। এছাড়া চুনো, ল্যাটা, ফলুই মাছ দিয়ে টক রান্না করা হয়ে থাকে৷ বাংলা সাহিত্যে বিজয়গুপ্তের "মনসামঙ্গল " এ পাই, "শৌল মৎস্য দিয়া রান্ধে আমের অম্বল। " আর রাঢ়ের কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর "চণ্ডীমঙ্গল " -এ খুল্লনার অম্বলে পারিপাট্যের সাজ ; " করিয়া কণ্টকহীন, আম্রে শউল মীন/ খর লুন দিয়া ঘন কাটি। " রাঢ়ের পৌষের বাউনি রীতিতে মূলো, বেগুন ও বড়ির টকের উল্লেখ আছে৷ তবে টক নাকি দূর যাত্রায় কখনই দেওয়া হয় না। কারণ কথায় আছে, টক, ত...