Posts

Showing posts from October, 2020

গজলক্ষ্মী দেবীর পূজা ও উৎস

Image
       আশুতোষ মিস্ত্রী  সংসারে সুখ শান্তি, ধন রত্নের আশা আকাঙ্খা সকলেই করে থাকেন। সকলেই চায় পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকতে। সংসারে যেন কোন দিন অভাব প্রবেশ করতে না পারে। সেই কারণে হিন্দু পরিবারে প্রতি বৃহস্পতিবার মা লক্ষ্মীর পূজো করা হয়। লক্ষ্মী দেবীর কৃপায় সংসারে আসে সুখ শান্তি এবং ধন রত্ন। তবে লক্ষ্মী দেবী বড়ই চঞ্চলা। তিনি এক জায়গায় বেশি দিন থাকেন না। এবং তার মন চঞ্চলা হলে সম্পদ ও সমৃদ্ধির বিনাশ ঘটে। লক্ষ্মীর আর এক নাম শ্রী - তিনি বিষ্ণুশক্তি বা বিষ্ণু-প্রিয়া।  অনেক সময় লক্ষ্মী গণেশ একসঙ্গে পূজা করলে সুখ শান্তি, ধন রত্নের সঙ্গে শুভবুদ্ধিরও উদয় হয়। লক্ষ্মীকে নিয়ে বাংলার জনসমাজে বিভিন্ন জনপ্রিয় গল্প প্রচলিত আছে। এই গল্পগুলি পাঁচালির আকারে লক্ষ্মীপূজার দিন পাঠ করা হয়। একে লক্ষ্মীর পাঁচালি বলে। লক্ষ্মীর ব্রতকথাগুলির মধ্যে "বৃহস্পতিবারের ব্রতকথা" সবচেয়ে জনপ্রিয়। এছাড়াও "বারোমাসের পাঁচালি"-তেও লক্ষ্মীকে নিয়ে অনেক লৌকিক গল্পের উল্লেখ পাওয়া যায়। যাইহোক আমার আলোচ্য বিষয় হলো গজলক্ষ্মী দেবীর পূজা ও উৎস সম্পর্কে। এই গজলক্ষ্মী নিয়ে আলোচনা করতে হলে প...

ইতিহাসের আলোকে কাশীরাম দাস

Image
রিয়া দাস (রাই)        বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মহাভারত অনুবাদে কাশীরাম দাস শ্রেষ্ঠ। কাশীরাম দাস বা কাশীরাম দেব মধ্যযুগীয় সপ্তদশ শতাব্দীর বাঙালি কবি। তিনি সংস্কৃত মহাকাব্য মহাভারত বাংলা পদ্যে অনুবাদ করেছিলেন। তাঁর অনুদিত গ্ৰন্থ ' ভারত পাঁচালী ' বা 'কাশীরাম সংহিতা ' যা আজ বাংলায় 'মহাভারত'( কাশীদাসী মহাভারত) নামে পরিচিত। তাঁর অনুদিত মহাভারত ই বাংলা ভাষায় সবচেয়ে জনপ্রিয়। খ্রীষ্টিয় সপ্তদশ শতকে বর্ধমান জেলার কাটোয়ার কাছে ইন্দ্রাণী পরগণার অন্তর্গত সিঙ্গি গ্রামে কাশীরাম বর্তমানে ছিলেন। মহাভারতের আদিপর্বে আত্মপরিচয় দিতে গিয়ে কাশীরাম দাস বলেছেন :– " কায়স্থ কুলেতে জন্ম বাস সিঙ্গি গ্রাম। প্রিয়ঙ্কর দাস সুত সুধাকর নাম।। তস্য সুত কমলাকান্ত কৃষ্ণদাস পিতা। কৃষ্ণদাসানুজ গদাধর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা।। মহাভারত অনুবাদের ক্ষেত্রে অবশ্যই কাশীরাম দাস পথিকৃৎ নন। কারণ এর আগে আমরা পেয়েছি কবীন্দ্র পরমেশ্বর, শ্রীকর নন্দী, গঙ্গা দাস সেন, নিত্যানন্দ ঘোষ প্রমুখ কয়েকজনকে। ১৮০২ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে উইলিয়াম কেরীর উৎসাহে পন্ডিত জয়গোপাল তর্কলঙ্কারের সম্পাদনায় কাশীরাম দাসের না...

প্রেম - সুধা নাকি গরল?

Image
লাবণী হোসেন      'ইশক' শব্দটির সাথে আমরা সকলেই পরিচিত। কমবেশী সকলেরই জীবনে কোনো না কোনো সময়ে 'ইশক' এর আগমন ঘটেছে। ইশক এর মাধুর্য থেকে বাদ যাননি রাজা - মহারাজা, নবাব, সম্রাটরাও। তাদেরই জীবনের প্রেম - ভালোবাসা নিয়ে বইটি রচিত যা নিঃসন্দেহে পাঠককে আকর্ষন করবে যেমনটি আমাকে করেছে।  আমরা রাজা - মহারাজা, নবাব, সম্রাট মানেই বুঝি আর জানি তাদের রাজ্য বিস্তারের গল্প, রাজায় রাজায় যুদ্ধ, তাদের ইতিহাসে অবদান। তাদের নিজ জীবন, মূলত প্রেম-জীবন নিয়ে আমাদের আগ্রহ থাকলেও আমরা সে বিষয়ে জানার খুব একটা সুযোগ পাইনা। মহাশয়া সহেলি চক্রবর্তী সেই না পাওয়াকে সম্ভবপর করে তুলেছেন তার এই  'দাস্তান-এ-ইশক' বইটির মাধ্যমে। একজন রাজা - সম্রাট ও যে প্রেমের হাতছানি এড়িয়ে যেতে পারেননি; তারাও আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো এর সাগরে নিমজ্জিত হয়েছেন সেটাই এই বইটির পাতায় আছে। লেখিকাকে ধন্যবাদ এমন একটা সুন্দর প্রচেষ্টার জন্য। একটি উদাহরণ দি - ঔরঙ্গজেব, যাকে আমরা একজন ক্রুর সম্রাট বলে জানি তিনিও কিন্তু প্রেমের বন্ধন থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে ব্যার্থ হন। অর্থাৎ ঔরঙ্গজেব ও প্রেমে পড়েছিলেন। বইটি আমার ভাল...

কিছু জানা ও কিছু অজানা নতুন আঙ্গিকে

Image
    লাবণী হোসেন      একটা ভালো খাবারের সুঘ্রাণ যেভাবে রসনা তৃপ্তির ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে ঠিক সেভাবেই সুব্রত বিশ্বাস মহাশয়ের 'নবা বী মুর্শিদাবাদের অন্দরে' বইটি ভ্রমণপিপাসু , জ্ঞানপিপাসু মানুষদের জানার আগ্রহকে এক ধাপ বাড়িয়ে দিতে পরোক্ষ ভূমিকার দাবি রাখে। ব ইটির বাইন্ডিং , পাতা র গুণগত মান এগুলো যেমন প্রশংসনীয় তার থেকে অনেক বেশি মাত্রায় প্রশংসনীয় লেখকের লিখনশৈলী। বইটিতে আমরা মুর্শিদাবাদের নবাবীয়ানার কিছু ঝলক দেখতে পাবো। দে খতে পাবো কিছু পরিচিত স্থান, পরিচিত অথচ নাম না জানা স্থান, তাদের সৃষ্টির পিছনের ইতিহাস। বইটিতে উপরি পাওনা হলো প্রতিটি বিষয়ের উপর কবিতা। আজ্ঞে হ্যাঁ কবিতা। লেখক খুব সুন্দরভাবে একদিকে যেমন ইতিহাস তুলে ধরেছেন তেমনই অন্যদিকে কবিতার মাধ্যমে যেন তাদের না বলা কথাগুলো বলিয়ে নিয়েছেন। সামগ্রিকভাবে বইটি আমার ভালো লেগেছে। এখানে বলে রাখা ভালো বইটিকে মুর্শিদাবাদ ভ্রমণের সম্পূর্ণ গাইড বলা না গেলেও মুর্শিদাবাদ ভ্রমণের ইচ্ছেকে বাড়িয়ে তোলার ক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে এ কথা বলা হলে সেটা বিন্দুমাত্র আতিশয্য করা হয় না। নি...

ইতিহাসের আলোকে মহাকবি কৃত্তিবাস ওঝা

Image
রিয়া দাস ( রাই  )  কে এই কৃত্তিবাস  ? কৃত্তিবাস বাংলার এক রূপ আদিকবি। তাঁর রামায়ণ অমৃত কাব্য। যতদিন বাংলা ভাষা ও বাঙালি নামের অস্তিত্ব থাকবে, কৃত্তিবাসের অতুল কীর্তি সেই রামায়ণের ততদিন বিনাশ নেই। পান্ডিত্যে ও কবিত্বে তিনি যেমন ছিলেন শক্তিশালী। তেমনি অন্যদিকে ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি, প্রেম ও বিশ্বাস ছিল তাঁর গভীর। যতদিন বাঙালি পরিচয় থাকবে ততদিন রামায়ণ অনুবাদকের মধ্যে দিয়ে কৃত্তিবাসের নাম অমর হয়ে থাকবে। সংস্কৃতে রচিত মহাকবি বাল্মীকির রামায়ণকে সহজসরল বাংলা পয়ার ত্রিপদী ছন্দে নিজের বিদ্যা বুদ্ধি ও ভাবানুযায়ী অনুবাদ করেছেন। কৃত্তিবাস মহাকাব্য রচনা করেন নি করেছিলেন  'রামায়ণ পাঁচালী ' – " বাল্মীকি বন্দিয়া  কৃত্তিবাস বিচক্ষণ। পাঁচালী প্রবন্ধে রচে বেদ রামায়ণ।। " অন্যান্য কবিদের মতো মধ্যযুগের এই কবির আত্মজীবনী ও তাঁর জীবন নিয়েও বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে। রাণাঘাটের কাছে ফুলিয়া গ্রামে এক ব্রাহ্মণ পরিবারে মাঘ মাসের শ্রীপঞ্চমী অর্থাৎ সরস্বতী পূজার দিন রবিবার কৃত্তিবাস জন্মগ্রহণ করেন। যদিও তাঁর জন্ম সাল নিয়ে নানা মতভেদ আছে। তাঁর পিতা বনমালী ওঝা এবং পিতামহ মুরারি ওঝা ছিল...

" লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন "– সবাই অবশ্য এই কথাটা শুনে থাকবেন, কিন্তু এখন প্রশ্ন হল - কে ছিলেন এই গৌরী সেন ? আচ্ছা তিনি একজন পুরুষ নাকি মহিলা ছিলেন ?

Image
  রিয়া দাস (রাই)          " লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন  " - এই প্রবাদটি এখনও বাংলার মাঠে- ঘাটে শহরের অলিতে গলিতে বহু লোকের মুখে শোনা যায়। পশ্চিমবঙ্গে গৌরী সেনের নাম জানে না, এরূপ লোক বিরল। ষোড়শ শতাব্দীর শেষে হুগলী শহরের অন্তর্গত বালি নামে এক পল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন গৌরী সেন। তাঁর সম্পূর্ণ নাম গৌরী শঙ্কর সেন। তিনি জাতিতে ছিলেন সূবর্ণ বণিক। তাঁর আদিনিবাস সম্পর্কে দুটি ভিন্ন মত রয়েছে। তিনি হুগলীর অন্তর্গত বালি গ্রামের অধিবাসী ছিলেন, কিন্তু অনেকে আবার বহরমপুরের অধিবাসী বলেন। তিনি কখনও বহরমপুরের অধিবাসী ছিলেন না। পর্তুগিজদের আমলে যে সকল দেশীয় ব্যাবসায়ী উল্লেখযোগ্য ছিল তাদের মধ্যে এক ব্যাবসায়ীর নাম আজও প্রবাদ হিসাবে উল্লেখ করা হয়। ব্যাবসা- বাণিজ্য, ধর্মকর্ম, জনকল্যাণ মূলক কাজে এই মানুষ টি বর্তমান প্রজন্মের কাছে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য। তিনি হলেন গৌরী সেন। আজও মানুষ টাকার প্রয়োজন পড়লে বলে " লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন "। তাঁর পূর্ব পুরুষ পুরন্দর সেন সপ্তগ্রামের পতনের পর পুরন্দরের বংশধর হলধর সেন হুগলীতে এসে বসবাস করেন। সেইসময় পর্তুগিজরাই ছিল, হুগলীর শাসনক...