Posts

Showing posts from September, 2020

বিস্মৃত স্বাধীনতা সংগ্রামী যতীন দাস

Image
রিয়া দাস (রাই)         বিপ্লবী যে শুধু ধ্বংসের বার্তা শোনান, তেমন নয় । তাঁর কন্ঠে একই সঙ্গে ধ্বনিত হয় ধ্বংস ও সৃষ্টির আহবান। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে আর এক যতীন- যতীন্দ্রনাথ দাসের জীবনও আমাদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। দক্ষিণ কলকাতার শিকদার বাগান এ ১৯০৪ সালে ২৭ শে অক্টোবর বিপ্লবী যতীন দাস জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পিতার নাম বঙ্কিম বিহারী দাস। আর মাতা ছিলেন সুহাসিনী দেবী। ১৯২০ সালে ভবানীপুর মিত্র ইন্সটিউশন থেকে তিনি ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর কংগ্রেসের সদস্য হয়ে তিনি অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দান করেন। বাঘা যতীনের চেয়ে পঁচিশ বছরের ছোট ছিলেন তিনি। কিন্তু  আবার দুই যতীনের উদ্দেশ্যে ছিল এক,তা হল - ভারতের স্বাধীনতা।১৯২১ সালে  তিনি প্রথম গেপ্তার হয়েছিলেন। সেই সময়ের কথা উল্লেখ করে সুভাষচন্দ্র লিখেছিলেন, ‘ আমার মনে আছে, ১৯২১ সালে পূজার ঠিক আগে আমরা যখন রসা রোডে কাপড়ের দোকানের সামনে পিকেটিং করি, তখন তিনি আমাদের সঙ্গে ছিলেন। অনেকের মতো তাঁকেও জেলে পাঠানো হয়, কিন্তু মুক্তিলাভের পর তিনি নিজেকে সক্রিয়ভাবে দেশের কাজে নিয়োজিত রাখেন, অনেকেই যা করেন নি। ‘ যতীন দাস ...

ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের আপোষহীন ধারার বলিষ্ঠ প্রতিনিধি বিপ্লবী বাঘা যতীন

Image
রিয়া দাস ( রাই )      “ মুক্তির – মন্দির সোপানতলে কত প্রাণ হলো বলিদান, লেখা আছে অশ্রুজলে “. ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, আবার তাড়িত করে। সে সমস্ত ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভালো, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানব সভ্যতার অভিশাপ- আশীর্বাদ। বিদূষক মিলনস্থল আজ স্মরণ করছে এমন একজন মানুষকে যে আমাদের দেশে “স্বাধীনতার হাঁসি “ আনার জন্য প্রান দিয়েছেন। ভারতের ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন।  ১২৮৬ সালের ২১ অগ্ৰহায়নে (১৮৭৯ সালের ৭ ডিসেম্বর) বাঘা যতীন জন্মগ্রহণ  করেন,  তৎকালীন নদীয়া জেলার কুষ্টিয়া মহকুমার কয়া গ্রামের মাতুলালয়ে। বাবা উমেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়। মা শরৎশশী দেবী। স্বামীর 'স্বর্গারোহণ', 'শ্মশান', 'সংসার' প্রভৃতি কাব্যগ্ৰন্থের রচয়িতা ছিলেন তিনি।  তাঁদের আদি নিবাস ছিল যশোর জেলার ঝিনাইদহ মহকুমার রিশখালী গ্রামে। পাঁচ বছর বয়সে তাঁর পিতার মৃত্যু হয়।এরপর মা এবং বড় বোন বিনোদ বালার সাথে তিনি মাতামহের বাড়ি কয়া গ্রামে চলে আসেন।  শৈশব থেকেই যতীন শারীরিক দিক থেকে যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল ...

রাষ্ট্রিক নয় ভারতের মধ্যযুগের সাধনা (চতুর্থ পর্ব)

Image
     প্রিয়াঙ্কা সরকার                                                                                                        (চতুর্থ পর্ব) ভক্ত ভগবানের আধারে পূর্ণাঙ্গতা আনে৷ বুদ্ধের ভক্তগণ এমনভাবেই তথাগতের আদর্শকে পূর্ণাঙ্গ ভাবে গ্রহণ করেন। অনুরূপে শিব বা বিষ্ণুকে ভক্তেরা আকাঙ্খা আর আদর্শের আধারে আশ্রয় রচনা করে৷ এবার আসি দক্ষিণ ভারতের দ্বাদশ আলবারোর কথায়৷ না, বলতেই পারেন এরা তো নীচকুলজাত আর "অণ্ডাল " একজন নারী৷ এরা জাতিতে অস্পৃশ্য ; ধর্মের ভিত্তিতে সবাই সমান, কিন্তু সমাজে তো জাতিভেদ প্রথা আছে৷ আ...

সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণান জন্মদিন : –( ৫ সেপ্টেম্বর, ১৮৮৮ – ১৭ এপ্রিল, ১৯৭৫ )

Image
    রিয়া দাস ( রাই  ) রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, ইতিহাস স্নাতকোত্তরের ছাত্রী।।      আজ হয়তো আমরা সকলেই ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণানকে নিয়ে মেতে উঠবো, তাইতো, কিন্তু তারপর  ?  আচ্ছা বলুন তো সত্যিই কি আমরা আমাদের দেশের ও সমাজের মহামানবদের পথ অনুসরণ করি  ? আরেকটা কথা না বললেই নয় যে, রবীন্দ্রনাথ মানে কি শুধুই রবীন্দ্রসংগীত বা বিশ্বভারতী  ? আজ শিক্ষক দিবস।প্রথমেই সমস্ত শিক্ষক দের আমি আমার শ্রদ্ধা ও প্রনাম জানাই ।  আর তার সাথে সাথে দেশের  প্রথম উপরাষ্ট্রপতি এবং দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণান কেও আমার শ্রদ্ধা ও প্রনাম জানাই । প্রথমেই শুরু করার আগে আমার একটি ছোট্ট কবিতা  – জীবনে মনুষ্যত্বের পথ দেখাতে শিক্ষক হলো শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি যিনি যুগ যুগ ধরে ছাত্রদের আঁধার ঘুচিয়ে আনে আনন্দ, আনে মুক্তি । শিক্ষা গুরু, সত্যের পূজারী দেয় সত্যের সন্ধান সেই সত্যের সাথে দেয় অমৃত লাভের সম্মান । শিক্ষক হলো জাতির মেরুদন্ড মানুষ গড়ার কারিগর দেশ ও জাতির গঠন করতে সে যে বদ্ধপরিকর ।। আমরা সকলেই জানি, ১৯৬২ সাল থেকে প্রতি বছর এদেশ ৫ সেপ্টেম্বর সর্...

মুর্শিদাবাদের নবাবী আমলের নদী বাঁধ ও মতিঝিলে মুক্তা চাষের ভূ-বৈজ্ঞানিক ইতিহাস

Image
    সুব্রত বিশ্বাস                                                                    লেখক ছবি তুলতে ব্যস্ত মুর্শিদাবাদের নবাবি আমলের ইতিহাস এবং ভাগীরথী নদী- একে অপরের পরিপূরক দুটি অধ্যায়। বলা ভালো, এই দুইটি উক্ত অধ্যায়কে একে অপরের সাহায্য ব্যতীত বিশ্লেষণ করা অসম্ভব। তদানীন্তন বাংলার নদীটির অন্য একটি পরিচয় ছিল ' কাশিমবাজার নদী'। অর্থাৎ সেই দিক থেকে বিচার করলে এটি স্পষ্ট যে- নবাবী আমলে ' কাটি গঙ্গা' নামটির কোন অস্তিত্ব ছিল না। ' কেন ছিল না' -  এই প্রসঙ্গে একটু পরে আসা যাক। প্রাথমিকভাবে যদি মুর্শিদকুলি খাঁনের আমলের বাংলা সুবার প্রেক্ষাপট লক্ষ্য করা যায়, তো দেখা যাবে তৎকালীন বাংলার সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে রাজধানী স্থানান্তর। আর এই স্থানান্তরিত রাজধানীর স্থান নির্বাচন হিসেবে সবার প্রথমে উঠে আসে নদীর অবস্থান- যা সেই আমলের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে  এক গুরুত্বপ...

কৃষ্ণনগরের সরভাজা ও সরপুরিয়ার ইতিহাস

Image
  রিয়া দাস (রাই)     কৃষ্ণনগর। কৃষ্ণনগর নাম শুনলেই প্রথমেই মাথায় আসে মাটির পুতুল, জগদ্ধাত্রী পুজো, মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজবাড়ী আর তার সাথে সাথে সরভাজা ও সরপুরিয়ার কথাও ছড়িয়ে রয়েছে। আর এই সমস্ত কথা কে জানে না বলুন তো, কমবেশি সকলেই জানে।এই মিষ্টি যুগলের ইতিহাস ৫০০ বছরের পুরনো। এই সরভাজা, সরপুরিয়া মিষ্টি জুটিকে কেন্দ্র করে কত রসালো গল্প উঠে এসেছে কবি-সাহিত্যিক দের কলমে। কত ঐতিহ্য বয়ে চলেছে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের এই সরভাজা, সরপুরিয়া। তার আগে আমাদের নদিয়ার যে কৃষ্ণনগর সে  সম্পর্কে কিছু জানতে হবে। কি করে তার নাম হল, আগে কারা বাস করত, জানি সকলেই জানেন তাও কিছুটা বলার চেষ্টা করলাম- নদিয়া রাজের প্রতিষ্ঠাতা ভবানন্দ মজুমদারের পৌত্র রাজা রাঘব রায় নবদ্বীপ-শান্তিপুর-কামালপুর-বিল্বপুষ্করিণী-বিল্ব গ্রাম- বহিরগাছির পন্ডিত সমাজের সান্নিধ্য লাভের জন্য, তাঁর জমিদারি প্রায় মাঝামাঝি স্থানে জলঙ্গী তীরবর্তী রেউই  গ্রামে, চতুর্দিকে পরিখা বেষ্টন করে এ রাজধানী স্থাপন করেন। রাঘবের পুত্র রাজা রুদ্র রায় রেউই এর পরিবর্তে কৃষ্ণনগর নাম রাখেন। কারণ তখন নাকি এখানে বহু কৃষ্ণোপাসকগোপ ব...