ঋষি যাজ্ঞবল্ক‍্য :স্বামী স্ত্রী সম্পর্কিত ধারনা :প্রসঙ্গ মৈত্রেয়ী


 লেখিকা- দেবযানী বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়






ঋষি যাজ্ঞ‍বল্ক‍্য বিদেহ রাজ‍্যে ছিলেন রাজা জনকের রাজ সভার দার্শনিক। সময়টা অনুমানিক খৃষ্টপূর্ব সপ্তম থেকে অষ্টম শতাব্দী।তিনি হলেন ঋষি বিশ্বামিত্রের বংশধর।সেই বিশ্বামিত্র যিনি ঋকবেদের তৃতীয় মন্ডলের  তথা গায়িত্রী মন্ত্রের রচনাকার। যাজ্ঞবল্ক‍্যের পিতা হলেন বাজসেনী, জননী হলেন সুনন্দা। তাঁর  দুই স্ত্রী কাত‍্যায়নী এবং মৈত্রেয়ী। কাত‍্যায়নী পুত্র কাত‍্যায়ন। শতপথ ব্রাহ্মন,শুক্ল যর্জুর বেদ বৃহদারন‍্যক উপনিষদ ছাড়াও তার শিক্ষা সংক্রাংন্ত গ্ৰন্হ রয়েছে। প্রাচীন ভারতীয় চিন্তাধারা গঠনে যাজ্ঞবল্ক‍্যে র অবদান অনস্বীকার্য। এছাড়া বলতেই হয় প্রাঞ্জল এবং সহজ সরল ভাষায় তার ব্রহ্মজ্ঞান ব‍্যাখা যেখানে ব‍্যবহারিক জীবনে র গুরুত্ব কে কখন ই খাটো করা হয়নি।

 নারী সম্পর্কে এবং স্ত্রী জাতি সম্পর্কে তিনি উচ্চধারনা পোষন করেছেন। তিনি শতপথ ব্রাহ্মনে  বলেছেন- "অর্ধো বা এষ আত্মনো যজ্জায়া" অর্থাৎ  জায়া নিজের অর্থাৎ পুরুষের অর্ধাংশ। এছাড়াও নারী পুরুষের প্রেম কেও তিনি চূড়ান্ত মর্যাদা দিয়েছেন। বলেছেন- " যথা প্রিয় য়া স্ত্রী য়া সম্পরিস্বক্তো নবাহ‍্য কিঞ্চন বেদ" অর্থাৎ  যেমন প্রিয় স্ত্রীর দ্বারা আলিঙ্গিত পুরুষের বাহ‍্যজ্ঞান থাকেনা তেমন ই ব্রহ্মজ্ঞান হলে বাহ‍্যবস্তুর কোনো বোধ থাকেনা। এখান এ আবার নারী স্বত্তার এখন স্বতন্ত্র প্রেমের উদাহরন টেনে নিজ স্ত্রী মৈত্রেয়ী কে বললেন-
"নবা তু অরে পতু‌ঃ কামায় পতিঃ প্রিয়ো ভবত‍্যাত্মনস্ত কামায় পতিঃ প্রিয় ভবতি।"(বৃ আ উপনিষদ) অর্থাৎ  স্বামীর কামনা তে স্বামী প্রিয় হননা। যখন স্ত্রী নিজেকে তার মধ‍্যে অভিস্থাপিত করতে পারেন বলেই স্বামী প্রিয় হন।
 

তপশ্চর্যায় যাওয়ার আগে তার সম্পত্তি স্ত্রী দের মধ‍্যে ভাগ করে দিলেন। কাত‍্যায়নী সন্তুষ্ট হলেন। কিন্তু মৈত্রেয়ী প্রশ্ন করলেন। -
"যা দিয়ে যাচ্ছ তাতে কি আমি অমর হব"।
যাঞ্জবল্ক‍্য উত্তর করলেন-

"অমরতার লেশ মাত্র নেই এতে"।
মৈত্রেয়ী বললেন-
"যা তে আমি অমর হবনা তা দিয়ে কি করব"?
 তখন যাজ্ঞবল্ক‍্য মৈত্রেয়ী কে ব্রহ্মবিদ‍্যার উপদেশ দিলেন । বললেন- আপন ব‍্যাক্তিসত্ত্বা কে বিশ্বসত্ত্বার  মধ‍্যে স্থাপিত করে স্বরুপে তাকে জানো‌; সেই স্বত্ত্বাই আত্মা সেই ব্রহ্ম। প্রকারান্তে বলা হল এই সেঈ জ্ঞান যা মানুষ কে অমর করে। এই জ্ঞান ই হল বৃহৎএর জ্ঞান অর্থাৎ ব্রহ্মজ্ঞান।

যাঞ্জবল্ক‍্য কে এখানে আলাদা করে মনে রাখার একটাই কারন তিনি কিন্তু ব‍্যবহারিক জীবন থেকে পলায়নের পরামর্শ দেননি বরং এর মধ‍্যে থেকেই বৃহৎএর উপলব্ধি করে জীবনের চরম মূল‍্য কে উদ্ভাসিত করার কথা বলেছেন।



তথ‍্যসূত্র:-সুকুমারী ভট্টাচার্য গ্ৰন্থ সমগ্ৰ, ছাড়াও ইন্টারনেট

ছবি :রাজা জনকের সভায় যাঞ্জবল্ক‍্য, রামেশ্বরম শংকরমঠ তামিলনাড়ু।

Comments

Popular posts from this blog

কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির ইতিহাস

বঙ্গে বর্গি আক্রমণ ও ধ্বংসাত্মক ফলশ্রুতি

কৃষ্ণনগরের সরভাজা ও সরপুরিয়ার ইতিহাস