নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ ও একটি কাবাবের গল্প


  

লেখক- ফারুক আব্দুল্লাহ
 

বাবা আমজাদ আলি খানের মৃত্যুর পর অওধের মসনদে বসেন নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ।নবাব হলেও নবাবীতে তার মন ছিলনা।তিনি সব সময় মেতে থাকতেন শায়েরি,মুশাইরা,খানাপিনা ও নাচ-গান নিয়ে।ফলে রাজকার্যে সময় দিতেন কম।ফলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসতে থাকে ইংরেজ কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে।এভাবেই ১৮৫৬ সালের কোন এক সন্ধ্যায় রাজধানী নগরীতে নবাবের প্রাসাদ যখন আলোয় সেজে উঠেছে তখনই আসে সেই দুঃসংবাদ।কুশাসনের অভিযোগে নবাবের সমস্ত ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার কথা শোনানো হয়।ফলে অওধের ভাগ্য বিড়ম্বিত নবাব ওয়াজেদ আলি শাহকে  রাজ্যপাট হারিয়ে বাধ্য হতে হয়েছিল রাজধানী লখনও ছেড়ে কলকাতার মেটিয়াবুরুজে জীবনের বাকি দিন গুলি অতিবাহিত করতে।নবাব ছিলেন ভীষণ খাদ্যরসিক।তিনি খাবার নিয়ে নানান ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে দেশ-বিদেশ থেকে আনাতেন খাস খানসামা।

কথিত রয়েছে যে নবাব যখন তার প্রিয় লখনও ছেড়ে বাংলাতে নির্বাসনে আসছেন তখনও নাকি তিনি সাথে করে প্রায় কয়েকশো শাহী বাবুর্চি সাথে নিয়ে এসেছিলেন। এই ঘটনায় প্রমান করে নবাবের খাদ্য রসিকতার কথা। নবাবের প্রিয় ছিল মাংসের নানান পদ, তবে সব থেকে প্রিয় ছিল কাবাব ।কিন্তু নবাবের খাওয়ায়া দাওয়ায় বিশেষ করে মাংস ও কাবাব খাওয়ায় বাধ সাধলো নবাবের দুর্বল দাঁত। ফলে মাংস খেতে না পাওয়ার যন্ত্রণা নবাব ওয়াজেদ আলি শাহকে পাগল করে তুলল।তাই তিনি ঘোষণা করলেন, যে বাবুর্চি নবাব কে নরম করে তৈরি করা কাবাব খাওয়াতে পারবে তাকে পুরস্কৃত করা হবে।

 ফলে নবাবের বাবুর্চিখানায় শুরু হয়ে যায় কাবাব বানিয়ে নবাবকে সন্তুষ্ট করার প্রতিযোগিতা।অবশেষে এক জনৈক বাবুর্চি নবাব ওয়াজেদ আলির মন জয় করতে সক্ষম হন। তিনি বিভিন্ন মসলা প্রয়োগে এমন এক ধরণের কাবাব বানালেন যা নবাব মুখে দিতেই গলে গিয়ে সমগ্র মুখে ছড়িয়ে পড়ল।নবাবও সন্তুষ্ট হলেন এবং এই নতুন কাবাবের নামকরণ করলেন ‘গলৌটি কাবাব’।‘গলৌটি’ বা ‘গলাওয়াটি’ শব্দের অর্থ হল যা নিমেশেই গলে যায়।
  (লেখকের বক্তব্য ও ছবি নিজস্ব এর জন্য 'প্রত্নচিহ্ন' টিম কোন ভাবে দায়ী নন)


Comments

Popular posts from this blog

কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির ইতিহাস

বঙ্গে বর্গি আক্রমণ ও ধ্বংসাত্মক ফলশ্রুতি

কৃষ্ণনগরের সরভাজা ও সরপুরিয়ার ইতিহাস