মুর্শিদাবাদ জেলার সংস্কৃতি চর্চায় রবিন বিশ্বাস
লেখিকা- সুপর্ণা বিশ্বাস
মুর্শিদাবাদ এর নির্ভীক ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতায় ও অনালোচিত ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্রে রবিন বিশ্বাস এর নাম চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে | কৈশোর থেকেই শিল্প -সাহিত্যের প্রতি ছিল তার গভীর অনুরাগ |মাত্র ১৮ বছর বয়সে নির্ঝর নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন | নদীয়া জেলার তেহট্টে বন্ধুদের নিয়ে গড়ে তোলেন 'ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংস্থা '| তিঁনি বহু স্মরণিকা প্রকাশে, গীতি আলেখ্য রচনায় ও মঞ্চস্থ করণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন | তাঁর শিল্প বোধ ছিল অসামান্য, তিঁনি এক সময় কারু শিল্পী বাসুদেব রায় ও সঙ্গীত শিল্পী উস্তাদ আবু দাউদ এর সঙ্গস্পর্শে আসেন, কিছুদিন সেতার চর্চাও করেন | এই দুই শিল্পীর মূল্যায়ন তাঁর কলমে ভাস্বর হয়ে রয়েছে | তিঁনি অনেক তথ্য চিত্রও নির্মাণ করেন, যদিও আর্থিক কারণে তার সবটাই বাস্তবায়িত হয়নি, তবে তার মধ্যে ২টো বাস্তবায়িত হইয়াছিল | লালদীঘির দক্ষিণ পূর্ব কোনে অবস্থিত ক্ষুদিরামের মূর্তিটির প্রতিষ্ঠাপনেও তাঁর অবদান স্মরণীয় | তিঁনি কৃষ্ণনাথ কলেজ প্রাক্তনী, শিল্পী -সংস্কৃতিক ও বুদ্ধিজীবি মঞ্চ, মুর্শিদাবাদ জেলা গেজেটিয়ার সহ বহু ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন | তা ছাড়াও তিনি জেলার বহু পত্র পত্রিকার প্রচ্ছদ শিল্পী ছিলেন |নাট্য বিষয়ক আলোচনা তেও তাঁর অবদান স্মরণীয় |প্রায় আট বছর জেলা সাংবাদিক সংঘের সহ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন দক্ষতার সাথে | এরপর ১৯৯৬ সালে তাঁকে 'ঝড়' সংবাদ সাহিত্য সাপ্তাহিকের দায়িত্ব দেয়া হলে তিনি নিজ দক্ষতায় ঝড় কে এক বিশেষ উচ্চতায় পৌঁছে দেন |তাঁর যোগ্য সম্পাদনায় প্রকাশ হয় বিষয় : মুর্শিদাবাদ ১,২,৩ প্রসঙ্গ : বঙ্গভঙ্গ, কল্লোল যুগ ও উত্তরাধিকার, এছাড়াও বহু সংখ্যা | ২০০৫ সাল থেকে 'আলোকপাত' নামে একটি নতুন বিভাগ করেন, যার আলোকে ঝড় আলোকিত হয় | তিনি ইতিহাসকে বিশ্লেষণ করেছেন সমাজ পরিবর্তনের ধারায় |এ জেলার ইতিহাস নিয়ে কাজ করতে সচেষ্ট গবেষকরাও তার কাছে ছুটে আসতো | প্রচার বিমুখ সহৃদয় এই মানুষটি অভীক সোম নামে বা বেনামে বেশী লিখতেন | নিজের থেকে বেশী অন্য কে দিয়ে তিনি লিখিয়ে নিতেন |গুণীর সমাদর করতে তিনি কোনো কার্পণ্য করতেন না | ২০০৯ সালের ২রা জুলাই এই সহৃদয় মানুষটির অকাল প্রয়ানে জেলার সংস্কৃতিক চর্চায় এক গভীর শুন্যতার সৃষ্টি হয়, যা আজও অপূরণীয়|

Comments
Post a Comment