বিভিন্ন যুগের সুরা পানের কথা
লেখিকা- রুকসার রোজিনা তিতুমীর হাসান
বর্তমান যুগপরিস্থিতির উপর নিক্ষেপিত দৃষ্টিপাত করলে লক্ষণীয়
বহুল প্রচলিত ও চর্চিত দ্রষ্টব্য বিষয়ই হলো
এ্যালকোহল বা মদ। প্রায় সকলেই জ্ঞাত ও প্রত্যক্ষ দৃষ্ট বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা ঠিক
কতটা মাদকাসক্তে আচ্ছন্ন।শুধুমাত্র বর্তমানকে দোষারোপ করলে বোধহয় সমীচীন হয়।ইতিহাসের
উল্টো পৃষ্ঠায় অন্তর্দৃষ্টিসংপন্ন সেই সুপ্রাচীনকালে বহু পূর্ব থেকেই বহাল ছিল এই
সোম রস।সুরা পান বা সোম রস কেবলমাত্র আভিজাত্যের প্রতীকই ছিল না, এ যেন এক ভোগবিলাস,
আমোদপ্রমোদের উপকরণও বটে। তাছাড়া মদ ,তাড়ি ,গাঁজা প্রভৃতি নেশা জাতীয় বস্তু আজও আমাদের
প্রাচীন ঐতিহ্য বহন করে চলেছে।
নশ্বর এবিশ্বে চীর
কাঙ্ক্ষিত অমর হওয়ার বাসনা।আর এই অমরত্ব লাভের উপায় অনুসন্ধান করতে অনেককেই বিসর্জন
দিতে হয় জীবনের মহামূল্যবান সময়।অতি প্রাচীনকালে মুনি-ঋষিদের থেকে আরম্ভ করে আধুনিককালের
গবেষকরাও আসমুদ্রহিমাচল পাড়ি দিয়েছেন শুধুমাত্র একটুকরো অমরত্ব লাভের আশায়।যা পারে-আপন
সত্বা ও অস্থিত্বকে মহাজগতের সঙ্গে অভীন্ন করতে।দান করতে পারে অসীম শক্তি ও সুস্বাস্থ্য।এমনই
একটি উপকরণ হলো সোম লতার রস বা সোম রস।যা নিয়ে যুগ যুগ ধরে চলছে অনুসন্ধান।অনেকেই ধারণা
পোষণ করেন সোম লতা গাছের নির্যাস থেকে যে সোম জাতীয় পানীয় নির্গত হয় তা দিতে পারে
মনুষ্য জগৎকে অমরত্ব। দান করতে পারে একটি নবজীবন।চীনের হেনান প্রদেশের গবেষকরা আবিষ্কার
করেন প্রাচীন অ্যালকোহল যুক্ত উত্তেজক এই পানীয়টি।যার উদ্ভব ঘটে চীনের একটি গ্রাম
জিয়াহু থেকে। খ্রিস্টপূর্ব ৭ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার অব্দে।খুব সম্ভবত ভারতের রাজস্থানের
অর্বুদ ও উড়িষ্যার হিমাচলের পাহাড়ি অঞ্চলে পাওয়া যায় সোম নামক এই লতাগুল্মটি।তবে
অনেকের মতে আফগানিস্তানের পাহাড়ি অঞ্চলে সোম গাছের ন্যায় উদ্ভিদ দেখা যায়।
প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায় সর্বপ্রথম অ্যালকোহলের ব্যবহার লক্ষণীয়।
তবে এটির ব্যবহার কোন উত্তেজক পানীয় হিসেবে নয়- মহামূল্যবান ঔষধ হিসেবে।অ্যালকোহল
শব্দটি ফরাসি শব্দ 'Alcool' এবং আরবি শব্দ
আলকুহ থেকে এসেছে ।যার অর্থ 'ইথানল'। এই ইথানল হল
এক ধরনের উদ্বায়ী তরল পদার্থ যা আখ থেকে গাজনের মাধ্যমে তৈরি করা হত।সাধারনত
অ্যালকোহল বলতে এক ধরনের জৈব যৌগ পদার্থ কে বোঝায়। যার হাইড্রোক্সিল কার্যকারী গ্রুপটি একটি অ্যালকাইল বা অ্যারাইল গ্রুপের সাথে যুক্ত
থাকে।সোমকে উত্তেজক পানীয় হিসেবে ব্যাপক প্রচলন
এর দরুন হয়ত আখের সমার্থক শব্দ সোম আজ বিলুপ্ত
প্রায়। আজকের আখ গাছ ই হয়ত ঋকবেদের সোম জাতীয় উদ্ভিদ।পুরান মতে শুদ্ধ দই মিশ্রিত সোম
রস পানে প্রবল ইচ্ছা পোষণকারী ব্যক্তি ইন্দ্রদেব প্রাপ্ত হতেন।সোম অধিক তেতো হওয়ার কারণে দুধে মিশিয়েও সোম রস পান করা হত।
তাছাড়া দইয়ের সঙ্গে মিশিয়েও পান করা হতো কিন্ত এর অর্থ অমৃত সুতরাং অতি প্রাচীনকালে
সোম রস পান ছিল অমৃত পান স্বরূপ।সোম রস বানানোর প্রক্রিয়া হল সোম লতারপৃষ্ঠভাগ পাথরের
জাঁতায় পিষ্ট করে পবিত্র মেষলোমের ছাঁকনি দ্বারা
ছেঁকে পরিশুদ্ধ করে পবিত্র পাত্রে দুধের সাথে মিশ্রিত করে কিছু দিন রাখার পর
সেটিকে দেবভোগ্যের জন্য প্রস্তুত করা।পূজার্চনা শেষে পুরোহিতগণরাও প্রসাদ রুপে সেবন
করতেন এই সোম রস। সোম রস বিন্দু বিন্দু করে খিত হয়েছিল বলে এর নাম ছিল ইন্দু।সোমের স্তুতি করা হয়েছে অমৃত তুল্য সঞ্জীবনী এক পানীয় স্বরূপ ।
মহাভারতের আদিপর্বের অন্তীম লগ্নে ধ্রুপদী ও সুভদ্রার মদ্যপানের চিত্র প্রস্ফুটিত।বনবাসকালে রামচন্দ্র সীতাকে নিয়েও মদ্যপান করেছেন এমন কোথাও কর্ণগোচর হয়। এছাড়াও বিরাট রাজার পত্নী জলের বোতলে উত্তেজক পানীয় পান করতেই বেশি পছন্দ করতেন সুতরাং বলা যেতে পারে প্রাচীন ঐতিহ্যা নুসারে নারী পুরুষ সকলেই মদ্যপায়ী ছিলেন।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য প্রাচীনতম সভ্যতা সুমেরীয় মেসোপটেমীয় সভ্যতার নায় ভারতীয় উপমহাদেশে আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বে এক নগর সভ্যতার উদ্ভব ঘটে যা হরপ্পা সভ্যতা নামে খ্যাত। সিন্ধু নদের মোহনা গড়ে উঠেছিল বলে এটি সিন্দু সভ্যতা নামে পরিচিত।এই সভ্যতায় শাসক শ্রেণী বা বণিক শ্রেণীর মানুষ সাজসজ্জায় ভূষিত হয়ে সোমরস পান করত।জাতীয় উত্তেজক পানীয় পান করে দিনের শেষে কোন উদ্যান প্রাঙ্গণে নর্তকীদের নিত্য গীত উৎসবে মত্ত হয়ে আমোদ-প্রমোদে নিজেদের নিয়োজিত করতেন।
ঋগ্বেদের প্রাচীনতম নিদর্শন এর কাল নির্ণয় যথেষ্ট মতপার্থক্য থাকলেও ঋকবেদের রচনাকাল খ্রিস্টপূর্ব1500 থেকে 1000 অব্দের মধ্যে। বৈদিক আর্যদের ধর্ম ছিল যজ্ঞ কেন্দ্রিক। যেমন অশ্বমেধ যজ্ঞ বাজপেয় যজ্ঞ রাজসূয় যজ্ঞ। এগুলিকে একত্রে স্রৌত যজ্ঞ বলা হত। শ্রেণীবিভক্ত বৈদিক সমাজে যোজ্ঞে পৌরোহিত্য করতেন হতৃ, উদগাতৃ, ব্রাম্ভ, অধবর্জু নামক চার শ্রেণীর ব্রাহ্মণ পুরোহিত বাহিনী। যজ্ঞের উপকরণ সামগ্রী দুধ ঘি চাল মাংসের পাশাপাশি সোম রস উৎসর্গ করা হতো দেবভোগ্যের জন্য।যজ্ঞে পৌরোহিত্যের সময় পুরোহিতগণ সোম রস পান করে নিজেদের পূজার্চনা বা যোগ্য ক্রিয়া সম্পন্ন করতেন। এই দেবভোগ্য সোম রস পূজার্চনা শেষে প্রসাদ রূপে বিতরণ করা হত। বৈদিক সমাজে জন্ম-মৃত্যু-বিবাহ যাগ-যজ্ঞ অনুষ্ঠান নৃত্যগীত বীনা বাদন প্রভৃতি অবসর বিনোদনের প্রধান অঙ্গ ছিল এই সুরাপান। উক্তানুষ্ঠানে সোম রস নামক উত্তেজক পানীয় পান করে নিজেদের আনন্দ-উল্লাসে গা ভাসিয়ে দেন।
বৈদিক সমাজে ইন্দ্র বরুণ অগ্নি সোম, মরুত পর্জণ্ণসূর্য,যম অদিতি উসা সাবিত্রী সরস্বতী প্রভৃতি দেবদেবীর সমাহার। বৈদিক আর্যদের মহত্তম
ও সর্বশক্তিমান দেবতা ছিলেন ইন্দ্র। যিনি শত্রুর
পুর বা নগর ধ্বংস করেছিলেন বলে 'পুরন্দর' নামে পরিচিতি লাভ করেন।বৃষ্টি বজ্র ও যুদ্ধের
দেবতা দেবতা ইন্দ্রের সোম রসে অত্যাধিক আসক্তি
ছিল।তাঁর অত্যাধিক প্রিয় পানীয় ছিল সোম রস। পৃথিবীর দেবতাগনের মধ্যে ঋকবেদে বিশেষ মর্যাদাধিকারি ছিলেন দেবতা অগ্নি। আগুনের দেবতা অগ্নিকে অতিথিরূপেও
বর্ণনা করা হয়। তিনি একাধারে ছিলেন দেবতাদের পুরোহিত আবার যোজ্ঞ প্রদত্ত আহুতি দেবতাদের
হয়ে গ্রহণ করতেন ।তার খাদ্যতালিকায় পানীয়র
মধ্যে সোম রসই ছিল প্রধান।
পার্থিব দেবতাগণ এর
মধ্যে অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে দেবতা সোম-র সমগ্র নবম মন্ডল টি যার যার উদ্দেশ্যে
নিবেদিত। দেবতা সোম সোমরস পান তো বটেই-
তিনি নিজেই ছিলেন বৃক্ষাদি দেবতা ও উত্তেজক
পানীয়ের দেবতা।ভারত যে সুপ্রাচীন সভ্যতার উত্তরাধিকার বহন করে চলেছে খ্রিস্টপূর্ব
ষষ্ঠ শতকের মহাবীর প্রবর্তিত জৈন ধর্ম ও গৌতম বুদ্ধ প্রবর্তিত বৌদ্ধ ধর্ম তার একটি
প্রকৃষ্ট উদাহরণ। গৌতম বুদ্ধ প্রবর্তিত বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি 100 বছর অন্তর বৌদ্ধ সংগীতি
অনুষ্ঠিত হয়।দ্বিতীয় বৌদ্ধ সংগীতিতে বৌদ্ধ ভিক্ষু খুনিদের দশটি পালনীয় কর্তব্য এর
মধ্যে তালের রস জাতীয় উত্তেজক পানীয় পানের রীতির প্রচলন ছিল। যা গ্রাম্য ভাষায় তালের
রস মাদকদ্রব্য তাড়ি নামে পরিচিত। যদিও বলা যায় বৌদ্ধ ধর্ম ও জৈন ধর্মে মদ্যপান নিন্দনীয়
ছিল।
খ্রিস্টপূর্ব 325 অব্দে
গ্রীক বীর আলেকজান্ডার ভারত ত্যাগের অল্পকাল পরে পরেই মৌর্য বংশ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
324 থেকে 300 খ্রিষ্টপূর্বাব্দ নাগাদ নন্দ
রাজাকে পরাজিত করে মগধের বৃহৎ সাম্রাজ্য অধিকার করেন। ঐতিহাসিক স্ট্রবোর রচনা থেকে
জানা যায় চন্দ্রগুপ্তের ব্যক্তিগত জীবন ছিল যথেষ্ট কৌতূহলোদ্দীপক। সর্বদা দাস-দাসী
পরিবৃত রাজা বিশেষ কোনো উপলক্ষ ছাড়া বাইরে বের হতেন না। কোন উৎসবাদিতে সাজসজ্জা ভূষিত
উত্তেজক পানীয় গ্রহণ করেই সামিল হতেন।
গ্রিক লেখকদের বিবরণী থেকে জানা যায় মৌর্য সম্রাট বিন্দুসার
মদ বা অ্যালকোহল ভীষণ ভালোবাসতেন ।তিনি সিরিয়া রাজা সেলুকাসের পুত্র প্রথম অ্যান্টি আকাশ এর কাছে ডুমুর ও মধুর মত চেয়ে ছিলেন
এবং সেই সুবাদে সিরিয়াল রাজা অমিত্রাঘাত কে দৌড়া উপহার দেন । কথিত আছে প্রিয়দর্শী
রাজা সম্রাট অশোকের প্রিয় খাদ্য ছিল পাখি অর্থাৎ ময়ূরের মাংস ও মদ। বিলাসিতার পূর্ণ
উপকরণ নিয়ে এবং স্ত্রীলোক দ্বারা পরিবৃত সম্রাট
অশোক বিহার যাত্রা ও শিকার যাত্রায় রওনা হতেন।
বিভিন্ন প্রাণী শিকার করার সাথে সাথে তিনি মদ্যপান রত থাকেন এ সময়। পরবর্তীকালে অবশ্য
মৌর্য সম্রাট অশোক বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণের পর নিরামিষাশী হন।
গ্রিক লেখকদের বিবরণী থেকে জানা যায় মৌর্য সম্রাট বিন্দুসার
মদ বা অ্যালকোহল ভীষণ ভালোবাসতেন ।তিনি সিরিয়া রাজা সেলুকাসের পুত্র প্রথম অ্যান্টি আকাশ এর কাছে ডুমুর ও মধুর মদ চেয়ে ছিলেন
এবং সেই সুবাদে সিরিয়াল রাজা অমিত্রাঘাতকে দৌড়া উপহার দেন ।পেরিপ্লাস অফ দি এরিথ্রিয়ান
সি গ্রন্থে উল্লেখিত শাসক ছিলেন সৌখিনতায় ভরপুর।
তিনি এতোটাই মাদকাসক্তে মহীত ছিলেন যে বিদেশ থেকে বাড়ি গাছা বন্দরের মাধ্যমে তার জন্য
আনা হত উৎকৃষ্টমানের মদ ও বিভিন্ন প্রসাধনী দ্রব্যাদি।
পল্লবদের সরিয়ে যারা আফগানিস্থান উত্তর-পশ্চিম ভারতের ভাগ্যবিধাতা
হলেন এবং কালক্রমে উত্তর-পূর্ব ভারতের 100 বিস্তীর্ণ অঞ্চলের আধিপত্য অর্জন করেছিলেন
ভারতবর্ষের ইতিহাসে তার নামে খ্যাত এ যুগে আমদানি হতো সোনারূপো কাঁচ এর সাথে সাথে।এই যুগে রাজা-প্রজা সকলেই ধর্মাচরণ
ও উত্তেজক পানীয় পানের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ভোগ করতেন ।প্রাচীনকালের প্রধান স্থলপথ
বাণিজ্যসড়ক রেশম সড়ক বা সিল্ক রোড কুষাণ সাম্রাজ্যের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ছিল। আসাম
রাজ্যের পক্ষে এর বাণিজ্যিক গুরুত্ব ছিল অসাধারণ এই পথ দিয়েই অন্যান্য দ্রব্যাদি সাথে
সাথে আনিতো হত বিদেশি মহামূল্যবান সূরা।এসময় শৈবদের মধ্যে লকুলিস প্রতিষ্ঠিত পাশুপত
নামে এক নতুন উপর সম্প্রদায়ের।
প্রাচীনকালের প্রধান স্থলপথ বাণিজ্যসড়ক রেশম সড়ক বা সিল্ক রোড
কুষাণ সাম্রাজ্যের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ছিল। আসাম রাজ্যের পক্ষে এর বাণিজ্যিক গুরুত্ব
ছিল অসাধারণ এই পথ দিয়েই অন্যান্য দ্রব্যাদি সাথে সাথে আনিতো হত বিদেশি মহামূল্যবান
সূরা।এসময় শৈবদের মধ্যে লকুলিস প্রতিষ্ঠিত
পাশুপত নামে এক নতুন উপর সম্প্রদায়ের উদ্ভব। এদের মধ্যেই বিবিধ আচার-অনুষ্ঠান পালনাদি হত দুঃখ নিবারণের জন্য এরূপ একটি হল উদ্যোগ গ্রহণ
তথা উত্তেজক পানীয় গ্রহণ।মূল্যবান সূরা বা সোম রস। সবচেয়ে বড় কথা হল এই যুগে রাজা-প্রজা
সকলেই ধর্মাচরণ ও উত্তেজক পানীয় পানের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ভোগ করতেন ।
প্রাচীনকালের প্রধান স্থলপথ বাণিজ্যসড়ক রেশম সড়ক বা সিল্ক রোড
কুষাণ সাম্রাজ্যের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ছিল। আসাম রাজ্যের পক্ষে এর বাণিজ্যিক গুরুত্ব
ছিল অসাধারণ এই পথ দিয়েই অন্যান্য দ্রব্যাদি সাথে সাথে আনিতো হতদিয়েই অন্যান্য দ্রব্যাদি
সাথে সাথে আনিতো হত বিদেশি মহামূল্যবান সূরা।এসময় শৈবদের মধ্যে লকুলিস প্রতিষ্ঠিত পাশুপত নামে এক নতুন উপর সম্প্রদায়ের
উদ্ভব। এদের মধ্যেই বিবিধ আচার-অনুষ্ঠান পালনাদি
হত দুঃখ নিবারণের জন্য এরূপ একটি হল উদ্যোগ গ্রহণ তথা উত্তেজক পানীয় গ্রহণ
করে উন্মাদ আচরণ পালন।
খ্রিষ্টপুর্ব তৃতীয় শতকের শেষ পর্বে সাতবাহন রাজ্যের প্রতিষ্ঠাকাল বলা যেতে পারে সাতবাহন যুগের বিখ্যাত বন্দর দিয়ে আমদানি দ্রব্যাদির মধ্যে ছিল নামিদামি বিদেশী মদের পাএ। থেকে অনুমিত হয় সাতবাহন শাসকদের মধ্যে মদ্যপানের প্রচলন ছিল।রানী নায়নিকা নান ঘাটশিলা লেখাতে উল্লেখিত সাতবাহন রাজা প্রথম সাতকর্ণী অশ্বমেধ যজ্ঞ, রাজসূয় যাগযজ্ঞের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন উক্ত অনুষ্ঠানে বা মদ্যপান করার রীতি বর্তমান ।নাসিক প্রশস্তি অনুসারে স্বয়ং রানী নায়নিকা ও এরূপ বৈদিক যজ্ঞের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন।এ যুগে মহিলারাও মদ্যপানে আসক্ত ছিলেন ।বিভিন্ন উৎসবের সুবেশি নারীদের সমাগম ঘটতো এমনই এক উৎসব মধু উক্ত অনুষ্ঠানে গান বাজনার পাশাপাশি যুবতী মেয়েরা
সেখানে কুঞ্চিকা পরিধান করে সুরাপান রত মদ্যপ অবস্থায় নৃত্য
পরিবেশন করত।এমনই আর এক উৎসব ফল্গু।এই উৎসবে নারী পুরুষ একত্রে সুরাপান রত অবস্থায়
নাচ-গানে মত্ত থাকত।তামিল সাহিত্যের একটি বিশিষ্ট যুগ যুগ নামে পরিচিত এই প্রথম তামিল
ব্রাহ্মণদের আবির্ভাব ঘটে এবং সাথে সাথে সুরা পান করতেন এমনকি তামিল রাজগণ বৈদিক যজ্ঞ
আচার-অনুষ্ঠান পালনের সাথে সাথে মাদকাসক্ত ছিলেন।উত্তর ভারতে কুষাণদের রাজনৈতিক আধিপত্য খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতকের পাদ
থেকে ক্ষয়িষ্ণু হতে হতে শেষ পর্যন্ত আনুমানিক 262 খ্রিস্টাব্দে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত প্রায়।
অর্ধ শতাব্দীর ব্যবধানে উত্তর ভারতেগুপ্ত শক্তির উত্থান লক্ষ্য করা যায় ।এ যুগে বর্ণ
ব্যবস্থা তেমন ছিল না বলা চলে ।এ সময় কিছু শ্রেণীর মানুষকে হীন চোখে দেখা হতো যেমন
চন্ডাল।
হাইফেন এর মতে একমাত্র চন্ডাল বাদে কেউই প্রাণী হত্যা করে না মদ্যপান করে না বা পেঁয়াজ রসুন খাইনা অর্থাৎ গুপ্তযুগেও মদ্যপানের প্রচলন তো অবশ্যই ছিল।আবার আমাদের বাংলার ইতিহাস ও নজর কাড়ে। দেবভট্টের প্রায়শ্চিত্ত প্রকরণ গ্রন্থের বিভিন্ন মদের উল্লেখ রয়েছে ।সদুক্তিকর্ণামৃত গ্রন্থে একাধিকবার মদ্যপানের উল্লেখ আছে ।সাধারণত নিম্ন শ্রেণীর লোকেরা মদ্যপানে অভ্যস্ত ছিলেন। তবে ব্রাহ্মণদের মদ্যপান প্রচলিত ছিল সে বিষয়ে অতিশয়োক্তি রয়েছে ।
ভারতবর্ষে মুসলমান
অনুপ্রবেশের কাল হতে ব্রিটিশদের আধিপত্য লাভের মধ্যবর্তী সময়কাল ভারত ইতিহাসের মধ্যযুগ
রূপে বিবেচিত হয়। 1206 খ্রিস্টাব্দে থেকে দিল্লির সুলতানি শাসন বা মুসলিম পর্ব শুরু
হয়।ভারতীয় উপমহাদেশে 1206 - 1526 খ্রিষ্টাব্দ
পর্যন্ত দিল্লি সুলতানা পর্ব। কালান্তরের পালাবদলের
মধ্যে দিয়ে একের পর এক সুলতান বর্গ নিজ গতিতে
প্রতিষ্ঠিত হয় আবার কালের নিয়মে হারিয়ে যান। ইলতুৎমিস এর পুত্র রুকনুদ্দিন থেকে
শুরু করে মইজুদ্দিন বহরম শাহ মাহমুদ শাহ প্রায় অনেকেই নারী ও সুরা দ্বারা মোহিত হয়ে সাম্রাজ্যকে অবক্ষয়ের পথে ধাবিত করেন।
ভারতে মুসলিম সাম্রাজ্যের অধীশ্বর ও প্রকৃত রূপকার সুলতান আলাউদ্দিন
খলজি তার রাজত্বের ঊষালগ্নে মদ্যপায়ী থাকলেও মদ্যপান ও মদ্য প্রস্তুত করা নিষিদ্ধ
করেন। এমনকি তিনি সরকার অনুমোদিত মদ্য প্রস্তুতকারকদের দিল্লি থেকে বহিষ্কার করার ব্যবস্থা
করেন। সুলতান স্বয়ং মদ্যপান ত্যাগ করেন এবং সমস্ত মদের পিপ বদাউন তোরণের নিকট ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। শোনা যায়, এখানে
এত মদ ঢালা হয়েছিল যে বিস্তীর্ণ এলাকা বর্ষাকালে কাদায় পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। তবে
তিনি সংশোধিত নির্দেশ দিয়েছিলেন নিজ গৃহাভ্যন্তরে আইনানুগ ভাবেই মদ প্রস্তুত করতে
পারবেন একান্ত ভাবে নিজের ব্যবহারের জন্য। তবে অনুমান সাপেক্ষ মদ্যপান নিষিদ্ধ ও মদ্যপান বেআইনি বলে ঘোষণা
এসবই ছিল তার রাজনৈতিক প্রয়োজন বোধের ফসল।
মদ্যপান নিষিদ্ধ কারি সুলতান আলাউদ্দিন খলজী পিতার অযোগ্য পুত্র মোবারক
শাহের ব্যভিচারীতা ছিল তার চারিত্রিক দৃষ্টান্তের অন্যতম বৈশিষ্ট। তিনি কেবলমাত্র বহুগামী
ছিলেন না সমকামী ও বটে। তাঁর রাজত্বের চার চারটি বছর নাচ-গান ও বিলাসবহুল হবে এর মধ্য
দিয়ে অতিবাহিত হয়।মুসলিম সুলতানাদের সুলতান আলাউদ্দিন খলজির পুত্ররা নাচ-গান মদ্যপান
নিয়ে মেতে থাকতেন।
মুসলিম সুলতানাদের সুলতান আলাউদ্দিন খলজির পুত্ররা নাচ-গান
মদ্যপান বিলাসবহুল যে অভিশপ্ত জগতের আকর্ষণ থেকে তারা আর বেরিয়ে আসতে পারেনি।ভারতীয়
শাসকদের মধ্যে সর্বাধিক বিতর্কিত ব্যক্তি হলেন সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক। তিনি উন্মাদ
হঠকারি ভাগ্যবিড়ম্বিত হলেও ব্যক্তিগতভাবে মহম্মদ ছিলেন চারিত্রিক কলুষমুক্ত নারীসঙ্গ
বা মদ্যপান বিষয়ে তিনি বিলাসবহুল যে অভিশপ্ত জগতের আকর্ষণ থেকে তারা আর বেরিয়ে আসতে
পারেনি।
ভারতীয় শাসকদের মধ্যে সর্বাধিক বিতর্কিত ব্যক্তি হলেন সুলতান
মুহাম্মদ বিন তুঘলক। তিনি উন্মাদ হঠকারি ভাগ্যবিড়ম্বিত হলেও ব্যক্তিগতভাবে মহম্মদ
ছিলেন চারিত্রিক কলুষমুক্ত নারীসঙ্গ বা মদ্যপান বিষয়ে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ বিলুপ্ত
আসক্তিমুক্ত। তাই বলা যেতে পারে দিল্লি সুলতানাতের মধ্যে মদ্যপানের প্রবণতা খুব একটা
ছিল না।দিল্লি সুলতানি সাম্রাজ্যের অবক্ষয়ের কালে গড়ে ওঠা রাজ্যগুলির মধ্যে অন্যতম
ছিল হিন্দু রাজ্য বিজয়নগর ও মুসলমান শাসিত রাজ্য বাহমনী। বিজয়নগরের অধিকাংশ মানুষ ওরা যা মাংস ভোগী ও মদ্যপ ছিলেন। পর্যটক এর নুনু
পর্যটক নিজের মতে অবাধে বাজারে পাখির মাংস ও মদ বিক্রি হতো ।পাখির মাংস সাথে মদ্যপানের
আসর বসতো।
মুসলমান শাসিত বাহমনী রাজ্য ছিল কলুষতা পূর্ণ। বাহমান শাসক
ফিরোজ শাহের বৃহৎ হারেমে মনোরঞ্জনের উপকরণ হিসেবে সর্বদা উপস্থিত থাকতো নানা জাতির
নারীর মেলা ও দেশি-বিদেশি নানান মূল্যবান মদের
সমাহার। প্রকৃতপক্ষে বাহমনী রাজ্যের ইতিহাস ছিল আত্মকলহ ও ষড়যন্ত্রের ইতিহাস মোট
14 জন রাজার মধ্যে দুই থেকে চারজন রাজার মৃত্যু হয় অতিরিক্ত মদ্যপানে। তাহলে এর থেকে
প্রমাণসাপেক্ষ বাহমনী রাজ্যে মদ্যপানের প্রবণতা
চরম আকার ধারণ করেছিল।
এতদসত্ত্বেও বলা যায় মাদকাসক্তে দিল্লি সুলতানাদের অনেক সুলতানগণই
যেমন কালের অতল গহ্বরে তলিয়ে বিলীন হয়ে গেছেন আবার এটাও অস্বীকার করার কোন জায়গা
নেই যে রাজতন্ত্রের আদর্শে বিশ্বাসী সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন ও 'kingship knows
no kin ship' তত্ত্বে বিশ্বাসী সুলতান আলাউদ্দিন খলজীর মত শ্রেষ্ঠ সুলতানগণ দিল্লির বৃহ সাম্রাজ্যে মদ্যপানের
মতো চরম উত্তেজক পানি এর ব্যবহার নিষিদ্ধ ও
বেআইনি বলে ঘোষণা করে তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থাকে কিছুটা হলেও শিষ্টাচারে আবদ্ধ করে রাখতে
পেরেছিলেন।
প্রাচীন সুলতানি পর্বের আতুর ঘর থেকে বেরিয়ে আমাদের যে যুগ
নজর কাড়ে সেটি হচ্ছে মুসলিম পর্ব মোগল যুগ।
1206 থেকে পরবর্তী প্রায় সাড়ে ছয় শত বছর ভারতের চলেছিল মুসলমান শাসকদের রাজত্ব
।তবে বলা যেতে পারে 1858 খ্রিস্টাব্দে তথাকথিত সিপাহী বিদ্রোহের পর সরকারিভাবে এ দেশে
মুসলমান শাসনের অবসান ঘটে। উপরিক্ত 650 বছর মুসলমান শাসনের মধ্যে প্রায় 181 বছর ,1526 থেকে 1707) প্রবাহিত মুঘলদের গৌরবময়
শাসন পর্ব। এসময় ছয়জন মোগল শাসক ভারত সাম্রাজ্যকে যে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল
তার দুটি প্রচলিত হয়েছিল সমগ্র বিশ্বজুড়ে। তবে বিভিন্ন রাজবংশের উত্থান-পতনের পালাবদলের
মধ্য দিয়ে মোগল সম্রাটদের চারিত্রিক কলুষতা
ও অনিমেষনেত্রে।
ভারতে মোগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর
ছিলেন এশিয়ার নরপতি গণের মধ্যে সবচেয়ে বেশি
প্রতিভাদীপ্ত ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী সামরিক বলে বলিয়ান সুন্নি মুসলমান। তিনি ব্যক্তিগত
জীবনে কঠোর নিয়ম নীতি মেনে চললেও মদ কবিতা একই সঙ্গে ভালবাসতেন। বাবর এর ফারসি ভাষায় রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ
'তুজুক ই বাবরী'তে তিনি নিজেই লিপিবদ্ধ করেছেন 1527 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি মদ্যপ
ছিলেন। জানা যায় তিনি যুদ্ধের ক্লান্তি দূর করার জন্য সেনাছাউনিতে মদ্যপানের মধ্য দিয়ে আনন্দ উপভোগ করতেন। তবে তিনি 40 বছরের
পড়ার নেশাগ্রস্ত হননি প্রয়োজনে তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে মদ্যপান বর্জন করে সেনাদের নতুন
আদর্শে উদ্বুদ্ধ করতেন।
ইতিহাসে সমস্যা সন্তান
বা problem child নামে খ্যাত হুমায়ুন ভাগ্যবিড়ম্বিত শাসক হওয়ায় তার সমস্ত পরিকল্পনা
ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। তিনি খুব একটা মদ্যপায়ী
না হলেও আফিম সেবক বটে। সম্রাট হুমায়ুন অহিফেন সেবনে এতটাই মত্ত ছিলেন যে আফিমই ছিল তাঁর জীবনের ট্রাজেডির মূল কারণ।মধ্যযুগের
ভারতের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রদীপ সম্রাট আকবর ছিলেন বিশ্বজনীন সহনশীলতার এক মূর্ত
প্রতীক ও আধুনিক চিন্তার জনক। তিনি সম্পূর্ণরূপে
মদ্যপ ছিলেন বলা দুরহ -তবে একেবারেই শূন্য ছিলেন তাও হয়তো বলা যায় না।মহান সম্রাট
আকবরের তৃতীয় পুত্র দানিয়েলের পছন্দের তালিকায়
মুখ্য স্থান অধিকার করেছিল শিকার যাত্রা ও মদ্যপান । তিনি দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সাথী
'ইয়াকা-ই-ঘনাজা' নামক বন্দুকের দ্বারা শিকার সম্পন্ন করতেন।'ইয়াকা -ই-ঘনাজা' শব্দের
ফারসি শব্দ মৃতদেহের বাক্সের মত। তিনি শাসনকার্য শুরুর পূর্বেই অতিরক্ত মাদকাসক্তে
নিমজ্জিত হন। অত্যাধিক মদ্যপানের ফলে রাজপুত্র দানিয়েলের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়
সম্রাট আকবর পুত্র দানিয়েল কে গৃহ অভ্যন্তরে
কড়া নজরদারিতে রাখেন। ফলে দানিয়েলের করুণ
অবস্থা হয়। ঠিক যেমন শিকারির মুখ থেকে শিকার ছিনিয়ে নিলে যেমনটা হয়।শাহজাদা
দানিয়েল তার প্রিয় অনুচর সুবে বাংলার সুবাদার মুর্শিদকুলি খাঁর শরণাপন্ন হন এক টুকরো মদের নেশায়। প্রতিশ্রুতিবদ্ধ শাহজাদার
আদেশ শিরোধার্য করে সুবাদার মুর্শিদকুলি খাঁ রাজপুত্রের প্রিয় বন্ধুক 'ইয়াকা-ই-ঘনাজা'র মরিচাধরা
বন্দুকের নলে করে যৎসামান্য সূরা এনে
দিতে সক্ষম হলেন। শাহাজাদা দানিয়েল খুব আনন্দের সহিত মদ্যপানের সাথে সাথেই
ভূলুণ্ঠিত হলেন। কিন্তু তার এ সাফল্য ছিল বিদ্যুৎচমকের নাই ক্ষণস্থায়ী। বহুদিনের মরিচা যুক্ত বন্দুকের নলে মদ আনার ফলে
বিষ ক্রিয়া ঘটায় রাজপুত্র দানিয়েল এর মৃত্যু হয় ।আর এই জন্যই ধীরে ধীরে নিভে গেল মুঘল সালতানাতের এক উজ্জ্বল প্রদীপ।
মুঘল সম্রাট আকবর এর অন্যতম প্রিয়তম পুত্র শাহজাদা সেলিম ইতিহাসে জগতের মালিক জাহাঙ্গীর নামে খ্যাত। সম্রাট জাহাঙ্গীরের চরিত্র
কলুষতা মুক্ত ও মাদকমুক্ত একেবারেই ছিল না
বললেই চলে। তিনি সর্বদা মদ্যপান ও অহিফেন
সেবনে এতটাই ডুবে থাকতেন যে তার রাজ্যপাট তার প্রিয়তমা পত্নী নূরজাহান র প্রাসাদের
আল )হাতে তুলে দিতে কার্পণ্য বোধ করেননি। ক্যাপ্টেন হকিন্স বলেন সম্রাট জাহাঙ্গীর প্রচুর
মদ খেতেন কিন্তু মদ্যপায়ীদের আবার কঠোর শাস্তিও প্রদান করতেন। সম্রাট জাহাঙ্গীর এতটাই
মাদকাসক্তে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন যে তিনি নিজেই স্বীকার করেছিলেন 'আমি এক সের মদ আর আধ সের মাংস ছাড়া কিছুই
চাইনা'। এতদসত্ত্বেও সম্রাট জাহাঙ্গীরের চরিত্রে কল্পনা সংগীত প্রতিভার অপূর্ব সমন্বয়
লক্ষ্য করা যায়।তবে আমাদের এটা স্বীকার করতেই হয় যে মুঘল সম্রাট শাহজাহান ও সম্রাট
ঔরঙ্গজেব এর মত মহান শাসকদের জীবনে মদের প্রভাব ছিল। পরবর্তী মুঘল সম্রাট গন বাহাদুর
শাহ জাহান্দার শাহ মোহাম্মদ সহ ফারুকশিয়ার
প্রোমো মোগল সম্রাটদের অযোগ্য অপদার্থ তার কারণে অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে দোর্দন্ড প্রতাপ মুঘল বংশের পতন অবশ্যম্ভাবী হয়ে
ওঠে এবং বিলীন হয়ে যায় কালের অবক্ষয়ের অতল গহবরে।
সুপ্রাচীন ঐতিহ্য বহনকারী এ্যালকোহল বা মদ বর্তমান সমাজের সর্বস্তরের
মানুষের মধ্যেই প্রতিনিয়ত প্রবাহিত। তবে মদ
বা অ্যালকোহল এর কিছু উপকারিতা বর্তমান থাকলেও এর অপকারিতা সংখ্যাটা নেহাতই কম নয়।
মদ্যপান মানুষকে সামান্য ক্ষণিকের সাফল্য এনে দিলেও সে সাফল্য ক্ষনিকের। তাই মদ্যপায়ী ব্যক্তিদের মদ্যপানের উপকারিতা
ও অপকারিতা দুটোই মাথায় রেখে মদ্যপান করা উচিত।তবে পূর্ব যুগের সোম রস,সুরা মদ তাড়ি,মাদিরা
জাতীয় উত্তেজক পানীয় সবই বর্তমান । তফাৎ রয়েছে কেবলমাত্র উপমার। যেমন 1.হোয়াইট
ওয়াইনের পূর্বনাম আসব।
2. রেড ওয়াইন এর পূর্ব নাম ব্রাক্ষ সূরা
3. হুইস্কি এর পূর্ব নাম মেদক।
4. রাম বা উত্তেজক
পানীয় ।
5. বিয়ার পূর্ব নাম সোম রস
6. ফর্টিফাইড ওয়াইন
এর পূর্ব নাম মৈরেয়।
মদ বা অ্যালকোহল তৈরির
বিভিন্ন উপকরণ ও কাঁচামাল সামগ্রী:
1 . হোয়াইট ওয়াইন বা আসব তৈরি করা হতো সাদা আঙ্গুরের নির্যাতিত রস থেকে।
2. রেড ওয়াইন বা দ্রাক্ষা সূরা কালো আঙ্গুরের নির্যাস থেকে।
3. হুইস্কি বা মেদক গম
পেশায় করে পরিশুদ্ধ করে উৎপাদন হত।
4. রাম বা উত্তেজক পানীয এটি ইক্ষু জাতীয় উপাদান দিয়ে তৈরি হতো।
5. বিয়ার বা সোম রস উৎপাদিত হতো গম ভুট্টা গাজন কৃত করে
তথ্যসূত্র
1. প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রণবীর চক্রবর্তী।
2. প্রাচীন ভারতবর্ষের ইতিহাস গৌরীশংকর দে।
3. প্রাচীন ভারতের ইতিহাস দিলীপ কুমার গঙ্গোপাধ্যায়।
4. প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রোমিলা থাপার।
5. প্রাচীন ভারতের ইতিহাস গোপাল চন্দ্র সিনহা।
6. ভারতের ইতিহাস তেসলিম
চৌধুরী।
7. মধ্যকালীন ভারত অধ্যাপক গোপাল কৃষ্ণ পাহাড়ি।
8. মুঘল রাজ থেকে কোম্পানি রাজ অধ্যাপক গোপাল কৃষ্ণ পাহাড়ি।
9. ভারতের ইতিহাস মুঘল যুগ থেকে আধুনিক যুগে উত্তরণ তাসলিম
চৌধুরি।
10. ভারতের ইতিহাস অধ্যাপক প্রভাতাংশু মাইতি।
11. উইকিপিডিয়া
(লেখকের বক্তব্য ও ছবি নিজস্ব এর জন্য 'প্রত্নচিহ্ন' টিম কোন ভাবে দায়ী নন)






Comments
Post a Comment