সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণান জন্মদিন : –( ৫ সেপ্টেম্বর, ১৮৮৮ – ১৭ এপ্রিল, ১৯৭৫ )

 

 

রিয়া দাস ( রাই  ) রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, ইতিহাস স্নাতকোত্তরের ছাত্রী।।

 


 

 আজ হয়তো আমরা সকলেই ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণানকে নিয়ে মেতে উঠবো, তাইতো, কিন্তু তারপর  ?  আচ্ছা বলুন তো সত্যিই কি আমরা আমাদের দেশের ও সমাজের মহামানবদের পথ অনুসরণ করি  ? আরেকটা কথা না বললেই নয় যে, রবীন্দ্রনাথ মানে কি শুধুই রবীন্দ্রসংগীত বা বিশ্বভারতী  ?

আজ শিক্ষক দিবস।প্রথমেই সমস্ত শিক্ষক দের আমি আমার শ্রদ্ধা ও প্রনাম জানাই ।  আর তার সাথে সাথে দেশের  প্রথম উপরাষ্ট্রপতি এবং দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণান কেও আমার শ্রদ্ধা ও প্রনাম জানাই । প্রথমেই শুরু করার আগে আমার একটি ছোট্ট কবিতা  –

জীবনে মনুষ্যত্বের পথ দেখাতে
শিক্ষক হলো শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি
যিনি যুগ যুগ ধরে ছাত্রদের আঁধার ঘুচিয়ে
আনে আনন্দ, আনে মুক্তি ।

শিক্ষা গুরু, সত্যের পূজারী
দেয় সত্যের সন্ধান
সেই সত্যের সাথে দেয়
অমৃত লাভের সম্মান ।

শিক্ষক হলো জাতির মেরুদন্ড
মানুষ গড়ার কারিগর
দেশ ও জাতির গঠন করতে
সে যে বদ্ধপরিকর ।।

আমরা সকলেই জানি, ১৯৬২ সাল থেকে প্রতি বছর এদেশ ৫ সেপ্টেম্বর সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণান জন্মদিন কে ‘ শিক্ষক দিবস ‘ হিসেবে পালন করে। স্কুল –কলেজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতেও এদিন নিজেদের শিক্ষক এবং অধ্যাপকদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন পড়ুয়ারা।

 আর আমাদের বাবা মা ই প্রথম ও পরম গুরু। আমাদের  জীবন যাপনের অন্যতম শিক্ষক। পরবর্তীতেও প্রিয় শিক্ষক তাঁরাই। তাঁদের স্নেহে, প্রশয়ে, শিক্ষায়, সহমর্মিতায়, মরমী সমালোচনায়, চরিত্র গঠনের দৃঢ় শিক্ষায় আমরা  ঋদ্ধ হতে থাকি ক্রমশ। আমাদের প্রতিটি আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঠিক কি হবে, শিশু বয়স থেকেই উচিত অনুচিত এই সবকিছুই  আমরা তাদের কাছ থেকেই পাওয়া। আমাদের আদর্শ আমাদের চরিত্র গঠন সব কিছুর প্রাপ্তি তাদের থেকেই।

শিক্ষক দিবস আমাদের সকলের কাছে আজও একটা মহান দিবস হিসেবে ই সূচিত হয়। একজন সফল মানুষের পেছনে শিক্ষকের যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে, তা হয়তো সকলেই জানেন, তাই নতুন করে বলার কিছু নেই। আর তিনি তাকে শুধু সফল নয়, একজন ভালো মানুষ হতেও শেখান । শিক্ষক রা হলেন যুব সমাজের মূল স্তম্ভ। শিক্ষক ছাড়া যোগ্য সমাজ ও উজ্জ্বল জীবন কল্পনাতীত।

 আচ্ছা বলুনতো কি এই শিক্ষা  ?  শিক্ষার উদ্দেশ্যেই বা কি ? আচ্ছা একটা কথা বলুন তো কয়েকটি বই মুখস্থ করার নাম ই কি শিক্ষা ? নাকি জ্ঞান, বুদ্ধি এবং চিন্তাভাবনার প্রকৃত বিকাশকেই কি শিক্ষা বলা হবে  ? এই প্রশ্ন গুলো হয়তো শুধু একান্তই আমার নয়, হয়তো অনেকেরই, যাই হোক।

দ্বিতীয়টাই যে সত্য তা বহু বছর আগে বুঝেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যা হোক করে একটা চাকরি জোগাড় করার শিক্ষা যে শিক্ষা ব্যবস্থা দেয়  তা ছিল তাঁর কাছে ‘ অসন্তোষের কারণ  ‘ । আর তাই তিনি গড়েছিলেন এক ব্যতিক্রমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ‘ বিশ্বভারতী ‘ , তাঁকে ছাড়া শুধু শিক্ষক দিবস কেন, একটি মুহুর্ত কাটানোও অসম্ভব।

একজন আদর্শ শিক্ষক হলেন সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণান। ১৮৮৮ সালে ৫ সেপ্টেম্বর বর্তমান তামিল নাড়ু এবং তৎকালীন মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির পুলিয়ানগুড়ি নামক স্থানে র একটি তেলেগু ভাষি নিয়োগী ব্রাক্ষ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন।

তাঁর প্রথম গ্ৰন্থ – “ The Philosophy of Rabindranath Tagore  “.

দ্বিতীয় গ্ৰন্থ –  “ The reign of Religion in Contemporary Philosophy “ ( 1920 ).
১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ছিলেন স্বাধীন ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি ( ১৯৫২–১৯৬২ ) এবং দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি (১৯৬২–১৯৬৭ )। তিনি যেরকম একাধারে ছিলেন দার্শনিক,  আবার তার সাথে সাথে পন্ডিত ব্যক্তিও,  অন্যদিকে শিক্ষক রাজনীতি বিদ্যালয়। তাঁর লক্ষ্যই ছিল ছাত্র সমাজ তথা দেশের চরিত্র গঠন ইত্যাদি সার্বিক উন্নতিতে সাহায্য করা।

রাধাকৃষ্ণান এর উক্তি : –
১/ ধর্ম হল একটি আচরণ, কোন বিশ্বাস নয়।
২/ জীবনে সুখ আর খুশি পেতে হলে জ্ঞান ও বিজ্ঞানের রাস্তায় হাঁটা উচিত।
৩/ একজন শিক্ষাবিদ তিনিই, যিনি সকলের সঙ্গে মিলে যেতে পারেন, কিন্তু তাঁর সঙ্গে সকলের মিল খুঁজে পাওয়া মুশকিল।

মূলত ২৭ বার মোট  নোবেল পুরস্কারের জন্য তিনি মনোনীত হয়েছিলেন। তিনি কর্মজীবন শুরু করেন মহীশূর কলেজের দর্শন শাস্ত্রের অধ্যাপক রূপে। এই কলেজে অধ্যাপনা করার সময় তিনি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য পত্রিকা ও লিখতেন। সে সময়ে তিনি লেখেন তাঁর প্রথম গ্ৰন্থ “ দ্য ফিলোসফি অফ রবীন্দ্রনাথ টেগোর “। তাঁর দূরদর্শী তা, পান্ডিত্য সে সময়কার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর বাংলার বাঘ আশুতোষ মুখোপাধ্যায়কেও মুগ্ধ করেছে।কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করার জন্য তাঁকে ডাক পাঠান বাংলার বাঘ আশুতোষ মুখোপাধ্যায়।। ১৯০৫ সালে তিনি মাদ্রাজ খ্রিষ্টান কলেজ থেকে দর্শনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। তাঁর বিষয় ছিল “ বেদান্ত দর্শনের বিমূর্ত পূর্ব কল্পনা “। ১৯৩১ সালে তাঁকে ব্রিটিশ নাইটহুড সম্মানিত করা হয়। ১৯৫৪ তে তিনি ভারতরত্ন সম্মান পান।

ইন্ডিয়া টুডে প্রকাশিত একটি লেখায় প্রাক্তন বিদেশ মন্ত্রী কে নটবর সিংহ বলেছিলেন, রাধাকৃষ্ণানের মুখে নিজের বিরোধিতা মেনে নিতে পারেন নি, ইন্দিরা গান্ধী। তাই ১৯৬৭ তে দ্বিতীয় বার রাষ্ট্রপতি হওয়ার সুযোগ হারান রাধাকৃষ্ণান। নটবরের কথায়, “ এটা রাধাকৃষ্ণনের কাছে বিশাল আঘাত ছিল । “

১৯৭৫ এর ১৭ এপ্রিল তিনি madras (বর্তমান chennai)  এর  mylapore এ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।।
ছবি – ইন্টারনেট

 

 রিয়া দাস রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের স্নাতকোত্তরের ছাত্রী।বরাবরই  ইতিহাসের প্রতি আগ্রহী।সাথে অবসর সময়ে কবিতা লিখতে ভালবাসেন। ইতিহাস নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন। অতীতের হাতছানিতে সাড়া দিয়ে মাঝে মাঝেই  বেরিয়ে পড়েন অতীত অনুসন্ধানে।রাজ্যের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ইতিহাস নিয়ে নানান গবেষণাধর্মী লেখা তিনি নিয়মিত ভাবে লিখে চলেছেন।     

Comments

Popular posts from this blog

কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির ইতিহাস

বঙ্গে বর্গি আক্রমণ ও ধ্বংসাত্মক ফলশ্রুতি

কৃষ্ণনগরের সরভাজা ও সরপুরিয়ার ইতিহাস