Posts

মুর্শিদাবাদের কিরীটেশ্বরী মন্দিরের কথা

Image
  সায়ন্তনী ঘোষ ভাগীরথীর পশ্চিমতীরে মুর্শিদাবাদ জেলার মধ্যে কিরীটেশ্বরী একটি পুরাতন স্থান।এই স্থানের প্রকৃত নাম "কিরীটকণা" । এই কিরীটেশ্বরী বর্তমানে পাশাপাশি অবস্থিত ডাহাপাড়া গ্ৰাম থেকে সাদ্ধক্রোশ পশ্চিমে অবস্থিত। পৌরাণিক ও তান্ত্রিক মতে কিরীটেশ্বরী বহু প্রাচীনকাল থেকে বিদ্যমান বলে উল্লেখ আছে।এই স্থানকে নিয়ে অনেক পৌরাণিক কাহিনীর উল্লেখ আছে, যেমন- দক্ষযঞ্জে সতী প্রাণ পরিত্যাগ করলে ভগবান বিষ্ণু তাঁর অঙ্গপ্রতঙ্গ খণ্ড খণ্ড করলে, সেই দেহের খণ্ড গুলি যে যে স্থানে পড়েছিল তার মধ্যে অন্যতম হল কি্রীটেশ্বরী । আরো এক কাহিনী যা প্রচলিত লোক মুখে শোনা যায় সেখানে নাকি এক সময় একরাতে গয়া নির্মানের কাজ চলছিল, কিন্ত ভোর হওয়ার পূর্বে বিঘ্ন ঘটার ফলে তা সম্পূর্ণ হয়ে ওঠেনি তারফলে ওই স্থানে অনেক ছোটো ছোটো ইটের ঢিবি লক্ষ্য করা যায়। যায় হক দেবির কিরীটপাত হওয়ায় কিরীটকণা মহাপীঠরূপে পূজিত হয়ে আসছেন। রাজা শশাঙ্ক যখন মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণে রাজধানী স্থাপন করে ছিল তখনও তিনি এই কিরীটেশ্বরী মন্দির দেবির শক্তির উপাসনা করতেন তিনি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্বেও হিন্দু ধর্মকে হেলা করেননি । এমন কি গু...

একটি মৃতপ্রায় নদীর আর্তনাদ

Image
  সঞ্চয়িতা সরকার যদি দেখি নদীর ইতিহাস, তার সৃষ্টি হয়েছে লক্ষ লক্ষ  কালের ইতিহাসে অনেক মিলিয়েও গেছে, শুষ্ক করিয়া বক্ষ। অনেকেরই স্থান আছে ইতিহাসে, অনেকের বা নেই,  এদেরও আমরা ফিরে পাবো, সমীক্ষা করবো যেই। 'Memories of Moribound River', নাম দিয়েছি তাই,  যা বলি শোনো এখন, অন্য কথা নাই। বাংলা তো নদীমাতৃক দেশ, নদী তার জীবনের সব,  নদী যদি শুকিয়ে যায়, তবে হবেই কলরব। নদীর মাছ ছিল খাদ্য, যা শরীরে যোগাবে প্রোটিন, নদী পথে যাতায়াত, এটাই ছিল রুটিন। বসতি ছিল তাকে ঘিরেই, ছিল বাণিজ্য তথা,  আজ আমি বলছি এখন মুর্শিদাবাদের নদীর কথা। হারিয়ে গেছে অনেক নদী, অনেকের বা ঢেউ,  ইতিহাসে আঁকড়ে আছে, মৃত্যুর প্রহর গুনছে কেউ কেউ। মুর্শিদাবাদের প্রাচীন নদ, ভৈরব নাম তার একখান হয়েছে পূর্বেই লীন, জীর্ণ তার জলাধার। মহানন্দা ও পদ্মা যেথায় মিলিত হয়,  ঠিক তার বিপরীতে, পদ্মা থেকে উৎপত্তি, এমন কথা কয়। জেনেছি আমি পূর্বে এটি ছিল  লালগোলা থানার অন্তর্গত  পদ্মার মূলধারা যখন গঙ্গা ছিলনা, মহানন্দা এই এছাড়া প্রবাহিত হতো। পরবর্তীতে পদ্মা রাণী, আসেন ভৈরবেতে,  তবে পদ্মা এখন...

গজলক্ষ্মী দেবীর পূজা ও উৎস

Image
       আশুতোষ মিস্ত্রী  সংসারে সুখ শান্তি, ধন রত্নের আশা আকাঙ্খা সকলেই করে থাকেন। সকলেই চায় পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকতে। সংসারে যেন কোন দিন অভাব প্রবেশ করতে না পারে। সেই কারণে হিন্দু পরিবারে প্রতি বৃহস্পতিবার মা লক্ষ্মীর পূজো করা হয়। লক্ষ্মী দেবীর কৃপায় সংসারে আসে সুখ শান্তি এবং ধন রত্ন। তবে লক্ষ্মী দেবী বড়ই চঞ্চলা। তিনি এক জায়গায় বেশি দিন থাকেন না। এবং তার মন চঞ্চলা হলে সম্পদ ও সমৃদ্ধির বিনাশ ঘটে। লক্ষ্মীর আর এক নাম শ্রী - তিনি বিষ্ণুশক্তি বা বিষ্ণু-প্রিয়া।  অনেক সময় লক্ষ্মী গণেশ একসঙ্গে পূজা করলে সুখ শান্তি, ধন রত্নের সঙ্গে শুভবুদ্ধিরও উদয় হয়। লক্ষ্মীকে নিয়ে বাংলার জনসমাজে বিভিন্ন জনপ্রিয় গল্প প্রচলিত আছে। এই গল্পগুলি পাঁচালির আকারে লক্ষ্মীপূজার দিন পাঠ করা হয়। একে লক্ষ্মীর পাঁচালি বলে। লক্ষ্মীর ব্রতকথাগুলির মধ্যে "বৃহস্পতিবারের ব্রতকথা" সবচেয়ে জনপ্রিয়। এছাড়াও "বারোমাসের পাঁচালি"-তেও লক্ষ্মীকে নিয়ে অনেক লৌকিক গল্পের উল্লেখ পাওয়া যায়। যাইহোক আমার আলোচ্য বিষয় হলো গজলক্ষ্মী দেবীর পূজা ও উৎস সম্পর্কে। এই গজলক্ষ্মী নিয়ে আলোচনা করতে হলে প...

ইতিহাসের আলোকে কাশীরাম দাস

Image
রিয়া দাস (রাই)        বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মহাভারত অনুবাদে কাশীরাম দাস শ্রেষ্ঠ। কাশীরাম দাস বা কাশীরাম দেব মধ্যযুগীয় সপ্তদশ শতাব্দীর বাঙালি কবি। তিনি সংস্কৃত মহাকাব্য মহাভারত বাংলা পদ্যে অনুবাদ করেছিলেন। তাঁর অনুদিত গ্ৰন্থ ' ভারত পাঁচালী ' বা 'কাশীরাম সংহিতা ' যা আজ বাংলায় 'মহাভারত'( কাশীদাসী মহাভারত) নামে পরিচিত। তাঁর অনুদিত মহাভারত ই বাংলা ভাষায় সবচেয়ে জনপ্রিয়। খ্রীষ্টিয় সপ্তদশ শতকে বর্ধমান জেলার কাটোয়ার কাছে ইন্দ্রাণী পরগণার অন্তর্গত সিঙ্গি গ্রামে কাশীরাম বর্তমানে ছিলেন। মহাভারতের আদিপর্বে আত্মপরিচয় দিতে গিয়ে কাশীরাম দাস বলেছেন :– " কায়স্থ কুলেতে জন্ম বাস সিঙ্গি গ্রাম। প্রিয়ঙ্কর দাস সুত সুধাকর নাম।। তস্য সুত কমলাকান্ত কৃষ্ণদাস পিতা। কৃষ্ণদাসানুজ গদাধর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা।। মহাভারত অনুবাদের ক্ষেত্রে অবশ্যই কাশীরাম দাস পথিকৃৎ নন। কারণ এর আগে আমরা পেয়েছি কবীন্দ্র পরমেশ্বর, শ্রীকর নন্দী, গঙ্গা দাস সেন, নিত্যানন্দ ঘোষ প্রমুখ কয়েকজনকে। ১৮০২ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে উইলিয়াম কেরীর উৎসাহে পন্ডিত জয়গোপাল তর্কলঙ্কারের সম্পাদনায় কাশীরাম দাসের না...

প্রেম - সুধা নাকি গরল?

Image
লাবণী হোসেন      'ইশক' শব্দটির সাথে আমরা সকলেই পরিচিত। কমবেশী সকলেরই জীবনে কোনো না কোনো সময়ে 'ইশক' এর আগমন ঘটেছে। ইশক এর মাধুর্য থেকে বাদ যাননি রাজা - মহারাজা, নবাব, সম্রাটরাও। তাদেরই জীবনের প্রেম - ভালোবাসা নিয়ে বইটি রচিত যা নিঃসন্দেহে পাঠককে আকর্ষন করবে যেমনটি আমাকে করেছে।  আমরা রাজা - মহারাজা, নবাব, সম্রাট মানেই বুঝি আর জানি তাদের রাজ্য বিস্তারের গল্প, রাজায় রাজায় যুদ্ধ, তাদের ইতিহাসে অবদান। তাদের নিজ জীবন, মূলত প্রেম-জীবন নিয়ে আমাদের আগ্রহ থাকলেও আমরা সে বিষয়ে জানার খুব একটা সুযোগ পাইনা। মহাশয়া সহেলি চক্রবর্তী সেই না পাওয়াকে সম্ভবপর করে তুলেছেন তার এই  'দাস্তান-এ-ইশক' বইটির মাধ্যমে। একজন রাজা - সম্রাট ও যে প্রেমের হাতছানি এড়িয়ে যেতে পারেননি; তারাও আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো এর সাগরে নিমজ্জিত হয়েছেন সেটাই এই বইটির পাতায় আছে। লেখিকাকে ধন্যবাদ এমন একটা সুন্দর প্রচেষ্টার জন্য। একটি উদাহরণ দি - ঔরঙ্গজেব, যাকে আমরা একজন ক্রুর সম্রাট বলে জানি তিনিও কিন্তু প্রেমের বন্ধন থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে ব্যার্থ হন। অর্থাৎ ঔরঙ্গজেব ও প্রেমে পড়েছিলেন। বইটি আমার ভাল...

কিছু জানা ও কিছু অজানা নতুন আঙ্গিকে

Image
    লাবণী হোসেন      একটা ভালো খাবারের সুঘ্রাণ যেভাবে রসনা তৃপ্তির ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে ঠিক সেভাবেই সুব্রত বিশ্বাস মহাশয়ের 'নবা বী মুর্শিদাবাদের অন্দরে' বইটি ভ্রমণপিপাসু , জ্ঞানপিপাসু মানুষদের জানার আগ্রহকে এক ধাপ বাড়িয়ে দিতে পরোক্ষ ভূমিকার দাবি রাখে। ব ইটির বাইন্ডিং , পাতা র গুণগত মান এগুলো যেমন প্রশংসনীয় তার থেকে অনেক বেশি মাত্রায় প্রশংসনীয় লেখকের লিখনশৈলী। বইটিতে আমরা মুর্শিদাবাদের নবাবীয়ানার কিছু ঝলক দেখতে পাবো। দে খতে পাবো কিছু পরিচিত স্থান, পরিচিত অথচ নাম না জানা স্থান, তাদের সৃষ্টির পিছনের ইতিহাস। বইটিতে উপরি পাওনা হলো প্রতিটি বিষয়ের উপর কবিতা। আজ্ঞে হ্যাঁ কবিতা। লেখক খুব সুন্দরভাবে একদিকে যেমন ইতিহাস তুলে ধরেছেন তেমনই অন্যদিকে কবিতার মাধ্যমে যেন তাদের না বলা কথাগুলো বলিয়ে নিয়েছেন। সামগ্রিকভাবে বইটি আমার ভালো লেগেছে। এখানে বলে রাখা ভালো বইটিকে মুর্শিদাবাদ ভ্রমণের সম্পূর্ণ গাইড বলা না গেলেও মুর্শিদাবাদ ভ্রমণের ইচ্ছেকে বাড়িয়ে তোলার ক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে এ কথা বলা হলে সেটা বিন্দুমাত্র আতিশয্য করা হয় না। নি...